জাকারিয়া প্রীণনের একগুচ্ছ কবিতা

কবি জাকারিয়া প্রীণনের জন্মদিনে দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা’র তরফ থেকে শুভেচ্ছা…

 

দেবদারু জ্যামিতি

জলের উপর ছবি দেখে পাখিরা ঠিক করে যায় পালক। আর জামরুল ফুলগুলি শেমিজে কাজকরা মেঘের ভাঁজ।

মুহূর্ত ফুরায় না এমন ঘড়ির কাটা দেবদারু দৃশ্য—পরে আছে সবুজ ফুলের পোশাক। তীব্র কুশলের বনে সোনালী অন্ধকার—যেন ডমরুবাদ্যবিশেষ। তাদের চোখ পাখিদের শিস—জ্বলে উঠে সর্পিল অনামিকায়। দূরের জংশনে—অগণন ফলসমূহে হীরামন পাখির গৃহ—পা ডুবিয়ে রাখে পথের সন্ধানে। এই মনোহর টিপের গভীরে এলোমেলো পাগলের হাসি—গলে যায়—ঋতুবতী মহিলার কৌতুকে। যাবতিয় শৈলপ্রভায়—ছায়াগুলো যেন আজ শববিদ্ধ পাথরের মৌসুম।

 

গোলাপ

পাপ কি গোলাপ ফুলের মতো দেখতে—সুন্দর; শ্রী

আমাকে একটু ছোঁয়ে দেখতে দাও—শুনেছি স্বর্গ

হয় মানুষের। অথচ মানুষ আমার ভালো লাগে না।

 

কই যাব আমি—এমন ফাল্গুন মাসের দুপুরে; গোলাপের দিকে

তাকালে মায়ের মুখ মনে পড়ে। প্রজাপতি দেখলে বুঝি বাবা

বাড়ি এলেন এই—গোলাপ কী কেবলই বাবাকে কেন্দ্রকরে ফুটে?

 

ভাবি অতটা প্রতারক হয়ে কেন জন্মালাম আমি—আমাকে

এমন যদি উড়তেই হবে গোলাপে গোলাপে।

 

জয়েন করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য ফোরাম

মাটি

ফুল ভাগ্য আছে তোমার

তাই ভাগ্যপ্রেমে

তোমার পথে দাঁড়াই প্রতিদিন

পাতারা নাচতেছে সবুজ ডিলেমায়

এমন ওঝা নৃত্য

শেষ হবে কবে—বলতে পার;

প্রতি সন্ধেবেলা

বসন্ত প্রাচীর বেয়ে

শরীর ভর্তি ঘ্রাণ

মাকড়ের রূপকল্প নিয়ে ফোটে দূরের শহরে

শরিষা ফুলে কাছে গিয়ে  দেখি

আমার যত পাপ—

নিজেকে মাটিতে রাখবো ভেবে;

মরতে ইচ্ছে করে না আর।

 

আরো পড়ুন- পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা