সকাল রয়ের কবিতা

কালক্ষেপন

কোনও সম্পর্কই নিখুঁত হয় না
অথচ দেখো ঘাসফুল কত নিখুঁত!
হাজারটা উদ্দেশ্য ভাবাতুর করে দেয় মানুষ মন,
ভেবে দেখেছ কি সময়ের উদ্দেশ্য কতোটা স্থির।

 

সম্পর্কের গায়েও জলের ফোঁটা জমে—
জমে ধুলোবালি, জমেকালি,
মুছে দেবার জন্য একটা হাত না হলে
সম্পর্কের কোন দায়ভার থাকে না।

অথচ পোশাক পাল্টানোর মতো—
আমরা সম্পর্ক পাল্টে ফেলি।

 

বিসর্জনের নদীতে

বাবা বলতেন- ‘একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে’,
বাবাবিহীন এক যুগ কাটিয়ে দিলাম, কিছুই ঠিক হলো না।

মরচে ধরা দেয়াল ধরে টিকটিকির মহোৎসব!
দেবদূত, গত এক যুগ ধরে শুধু পাপের কথা লিখে নিয়ে যাচ্ছে, পূণ্যের খাতায় শূন্য!

এই রাষ্ট্রে আর কোনো ভিক্ষুক থাকবে না;
প্রচারে এখন প্রেসার বাড়ছে, প্রচুর উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু ভিখেরী কমছে না।

লুটপাটতন্ত্রের প্রতিবাদী বামদল, খাম- ধরে ডান হয়ে যাচ্ছে

দার্শনিকের বাহার আর থাকছে না।

 

একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে ভেবে-

হরেকৃষ্ণের বংশকন্যার পা’য়ের পর পা মিলিয়ে পথ হেঁটেছিলাম

কিন্তু পরিণয়ের রঙে ডুবতে পারলাম না।

 

বাবা বলতেন- ‘একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে’
কিন্তু আমি জানি-
একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যায় না,

সব কিছু ঠিক করে নিতে গেলে আদর্শ বিসর্জনের নদীতে নেমে পড়তে হ

 

আরো পড়ুন- শ্যামশ্রী রায় কর্মকারের কবিতা

জানুআরি রেইন

বৃষ্টি হচ্ছে আধেক এবং অধিক

তবে সর্বাধিক নয়।

জানুআরি রেইন! শীত এবং গীত দুটোই জমাটি হয়ে ভেসে আছে।

হাঁটছিলাম একা, রঙীন বাতির দল রাস্তা জুড়ে।

বড় দিঘীর পাড় পার হতেই-

ঝেঁপে অথচ খুব মেপেবৃষ্টি এসে গায়ের উপর পড়ে জানান দিচ্ছিলো।

 

রুমঝুম ঘুম নগরের সুখী মানুষদের চোখে

ঘুম নেমে নেমে যখন উন্মাদ ঠিক তখনও চলমান-

নিশিনদে হাতরে হাতরে নিজেকে আবিস্কারের নেশায় আমিমত্ত।

গৃহবাসী না হবার বিপুল অবাসনায় যে ভাবনা এতোকাল আন্দোলন করে চলেছিলো

তার পরাজয় অনেকটাই নির্বাসনযোগী করে তুলছে।

 

দূর থেকে যা রঙীন ও রহস্যাবৃত!

কাছ থেকে তার স্বরুপ ফেলো হয়ে বেভুল শান্তনা দিয়েই ঘুম পাড়িয়ে রাখে।

হয়তো কিছুই না তবুও কেন মচকাতে যাওয়া।

নদে নেমে হৃদে থাকার অকিঞ্চন বাসনাকে ভাসমান করে রাখার মানে তো নেই কোন-

তার’চে উজান চলো।

জানুআরি রেইন হচ্ছে, কোথা আছো এখন তুমি…?

 

ফেসবুকে ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা