শ্যামশ্রী রায় কর্মকারের কবিতা

ভিখারি

দারুণ আমেজে আজ এসেছেন হাওয়ার দেবতা

রাজাসন ভেবে বসে পড়েছেন পৃথিবীর ছাদে

পাতা কুর্ণিশ করছে, মেঘ সসম্ভ্রমে সরে গেল

ধুনুরির সাইকেলে জলের গীতিকা  বেঁধে নিয়ে

কোথায় যে পাড়ি দিল! ঠিকানা দিয়ে যায়নি কোনও

 

কী কাণ্ড দ্যাখো দেখি! এক তন্দুর খিদে নিয়ে

একটা ভিখারি ছেলে হাত পেতে দাঁড়াল রাস্তায়

ওহে ব্যথাখোর ছেলে, কী এমন দেব গো তোমাকে?

রাত নেই দিন নেই, আমরাই হাত পেতে আছি

রূপ দাও, যশ দাও, নিয়ত সাফল্য দাও, আরও

 

ও ছেলে, জান না তুমি? মানুষের চেয়ে কেউ বেশি

দরিদ্র নেই মূর্খের এই মহাপৃথিবীতে

আজন্ম ভিখারি সে, মুঠি করে যা এনেছিল

মূল্য বোঝেনি তার। মণিকাঞ্চন ফেলে দিয়ে

অসম্ভব দীর্ঘ হাত বাড়িয়েছে অনর্থের দিকে

 

বৃহতের ক্ষুদ্র ছিল, ক্ষুদ্রের বৃহৎ হতে গিয়ে

বিরাট একটা উঁচু থেকে প্রায় গড়াতে গড়াতে

সেই যে সে পড়ে যেতে শুরু করেছিল একদিন

এখনও সে ক্রমশই নেমে যাচ্ছে

নীচে

আরও নীচে

 

হঠাৎ তারই মধ্যে কেউ কেউ ঝাড়া দিয়ে উঠে

ওপরের দিকে যায়

অস্তিত্ব ছাপিয়ে হয়ে ওঠে

আদিগন্ত রোদে ভরা ধানের প্রতিমা

 

সে মানুষ আমি নই

এই জানাটুকু দিতে পারি

এইটুকু নিয়ে লাভ হবে কি তোমার  কোনও কিছু?

 

এখন দিনের শুরু

রাতের লেখা কবিতাগুলো

দিনের ঝাপট লেগে উড়ে যাচ্ছে,আলোর ফোয়ারা

কাগজপাখির ডানা ধুয়ে দিচ্ছে, অক্ষরের দেহ

চিকমিক করে উঠছে ললিত আলোর সংরাগে

 

ক্রুদ্ধ রাস্তা ছেড়ে উদাসীন সেতুর ওপরে

তুমি উঠে এলে

 

ফোলা কপালে নয়নাকার ক্ষত,

গ্রীবাটি ব্যথায় নীল, চুলেও তো কবেকার জটা

তোমার সুন্দর মুখ ধরে আছে অভাবের বৃতি

তোমার পায়ের নীচে দুঃখের নির্জন সেতু

 

তবু তুমি যেন  জল

নিখিল ব্রহ্মাণ্ড দুটি চোখে

 

ভিক্ষে নিতে আসা ছেলে

তোমাকে ভিক্ষে দেব ভেবে

ব্যাগ হাতড়াই আমি। হাতড়ানো নয়, অস্থিরতা

আমাকে ভাবিয়ে তোলে

তোমাকেই প্রশ্ন করে বসি

স্বার্থের ধুলো ও ধোঁয়ায় মোড়ানো এ শহরে

দানও যে একটি ধ্যান

সেকথাই কি শেখাতে এলে?

 

আরো পড়ুন- জাকারিয়া প্রীণনের কবিতা 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা