প্রত্যয় হামিদের একগুচ্ছ কবিতা

ইরেজার

এই যে এই দূরত্ব

কত বার মুছে দিতে চেয়েছি দুজন।

মুছে দিতে দিতে দেখি

ইরেজার গলে গলে

আটকে যাচ্ছে কাগজের শিরায় শিরায়।

 

নতুন যত ইরেজার

কত বার এইভাবে হৃদয়ের তাপে

গলে গেছে-

হিসেব রাখিনি কেউ।

 

উত্তাপ অনূদিত হলে উষ্ণতায়

জেনে যাই-

দূরত্ব বস্তুগত।

 

আমরা, বরং এসো, হিসেব না কষে

থেকে যাই

দলাপাকানো এই সব কাগজে কাগজে।

 

আলোর ঘ্রাণ

 

বহু বহু যুগের সাধিত অর্চনা

অতঃপর আলো হয়ে

প্রতিষ্ঠা পেল এই রাতে…

 

সে আলো

পূর্ণতা দিল বলে

দিনগুলো পেল দিব্যজ্ঞান

 

রাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে

বিকশিত এখন আলোর ঘ্রাণ-

পথে পথে সুখমিছিল…

 

অর্চনা প্রাণ পেলে

মোনালিসা নেমে আসে

মানুষ-অস্তিত্বে।

 

কৃষ্ণবলয়

 

এই সব নিয়ে ভাবিনি কখনও-

কালো হরিণচোখ, কিংবা কালো লম্বা চুল

 

আমি দেখেছি কেবল

তার কালো বরণ ঠোঁট!

 

এমন রঙহীন রাজ্যে

কী করে সমস্ত রঙ উচ্চারিত হয়;

দেখি, আর ক্রমাগত ডুবে যাই

কৃষ্ণ অরণ্যে!

 

ওখানে প্রাণহরণের বিষ আছে জেনেও

নিশ্চিন্তে এগিয়ে যাই।

গাঢ় চুমুকে নিমেষে নিঃশেষ হবো জেনেও

নিবেদন করি নিজেকে নিঃশব্দে।

ঘন রসে আটকে যাবো জেনেও

মধুলোভে আচ্ছন্ন আমার স্নায়ুবলয়!

 

ও কালো ঠোঁট!

আরও আরও বিষময় হও-

রঙ ছড়িয়ে, রঙ পুড়িয়ে

আরও বেশি নিরঙ হও-

 

আমি তোমার ওই কৃষ্ণঠোঁটে

একটি বার এই ঠোঁটটি রেখে

পুড়ে মরি- অমর হই!

 

আরো পড়ুন: বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা

পায়ে পায়ে জয়

[উৎসর্গ: বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল]

এই যে

আমার পায়ে পায়ে জয়-

আমি

পৃথিবীর বিস্ময়।

 

আমি বহুবার বলেছি- হও।

 

হয় না।

হয় না।

হতে চায় না।

 

অতঃপর হয় একদিন।

হতে হয়।

হয়ে ওঠে যুগের বিস্ময়।

 

সামনের তোরণ দেখে সবাই-

পেছনে ফেলে আসা রাস্তার গর্জন

শোনে না কেউ…

 

রক্তাক্ত রাস্তা-

ভয় ও ভীতি পরতে পরতে

বাঁকে বাঁকে।

 

বাঁক বদল করতেই

ছুটেছি। ছুটে চলেছি সবাই।

ছুটেছি সমস্বরে

ছুটেছি এমনকি একা, একাই।

 

কেউ হয়তো রেখেছে সে খোঁজ।

আমাদের চোখে দেখে আস্থা অপার

পায়ে দেখে দৃপ্ত সরণ-

আঙুলে রেখেছে তার হাত ভরসার।

 

আমাকে চিনেছে মাটি

চিনেছে ঘাস।

পৃথিবীর বিস্ময় আমি

“উঠিয়াছি একা”

পায়ে রেখে

জয়ের আকাশ!

 

সুনীল জলে নীলাকাশ

 

অথচ তাকিয়ে দ্যাখ

এখনও মেঘ হয়ে ঠিক ছায়া দিই তোকে

বৃষ্টি হয়ে তৃপ্তির পরশ।

 

সুনীল জলে যে নীলাকাশ

তার সবটুকু জুড়েই আমি-

ছুঁয়ে দিলে জল

ছুঁয়ে দিস তো আমাকেই!

 

মেঘ বলেই

জলে মিশে আছি।

জলকে অস্বীকার করবি কেমনে তুই!

কেমনে?

 

তোর ওই স্বাধীন আকাশে

চোখ মেললেই দেখবি

ভালোবাসা কতটা স্বাধীন হয়ে

ঘিরে আছে তোকে

নিশ্বাসের মমতায়!

 

নিশ্বাসকে মুক্ত রাখতে হয়

জানিস তো!

 

প্রত্যয় হামিদ: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বাউয়েট), কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট, নাটোর- ৬৪৩১। সম্পাদক, হাইফেন। ই-মেইল: prottoyhamid@gmail.com 

আরো পড়ুন: পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা