মিশরের পিরামিডের ইতিহাস ও রহস্য

পৃথিবীর সপ্তমাশ্চর্যের মাঝে অন্যতম হলো মিশরের পিরামিড (Pyramid)। পিরামিড শব্দটা শোনা মাত্রই আামাদের চোখে ভেসে ওঠে রহস্য রোমাঞ্চ ভরা কিছু পাথরের ইমারত, চারপাশে ধূধূ মরু আর বালি রাশি। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে এসব স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করেন ইতিহাসবিদ এবং পুরাতত্ত্ববিদরো। নির্মাণের পর থেকেই পিরামিডের রহস্য নিয়ে আকুল হয়ে আছে পৃথিবীর মানুষ।

পিরামিডের নিমার্ণশেলী যেকোনো দর্শককে মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে রাখতে সক্ষম। পিরামিডের দেয়ালে দেয়ালে খোদাই করা ক্যালিগ্রাফি, আল্পনা, চিত্রলিপি, ধর্মসঙ্গীতগুলো পিরামিডকে অনন্যতা দান করেছে। এসব নিয়ে গভীর জল্পনা-কল্পনার পরও পিরামিডের নিমার্ণকলা নিয়ে আধুনিক জগতের মানুষ কোনো কিনারা পায়নি।

পিরামিডের দেয়ালের একটি পাথরের সাথে আরেকটি পাথর এমনভাবে যুক্ত যে, মাঝখানে একটি চুলও ঠাঁই পাবে না। অনেক আধুনিক পুরাতত্ত্ববিদ মরে করেন, একপাশে মাটির ঢাল তৈরি করে ঢালের উপর পাথরগুলো টেনে নিয়ে বসানো হয়েছে। অনেকে আবার এই পদ্ধতিকে মানতে নারাজ। তারা মনে করেন- পিরামিড যত উঁচু হয়- ঢাল তত প্রশস্ত হয়- ঢালের মাধ্যমে পাথর প্রতিস্থাপন করতে গেলে ১৩ কিলোমিটার লম্বা মাটির ঢাল তৈরি করতে হবে- যা প্রায় অসম্ভব। অনেকে মনে করেন- পিরামিড তৈরি করা হয়েছে মাটির ঢিবি তৈরি করে তারপর মাটি খনন করে। পিরামিড নির্মাণ শেষ হলে চারপাশ থেকে মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে সব থেকে মজার ব্যাপার হলো, পিরামিড নির্মাণকলা নিয়ে কারো মতবাদই অপরপক্ষ মানছে না।

আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশর শাসন করতো ফারাও বা ফিরাউনরা। মিশরের তৎকালীন সম্রাটদের ফিরাউন (Pharaoh) বলা হতো। ফারাও সম্রাটরা মারা গেলে তাদের সমাধিস্থ করার জন্য এসব পিরামিড নির্মাণ করা হতো। ফিরাউনদের সমাধির জন্য সেসময় ৭৫টি পিরামিড নির্মাণ করা হয। সবচেয়ে বড় পিরামিডের নাম হলো- গিজার পিরামিড। যা ফারাও সম্রাট খুফুর সমাধির জন্য তৈরি করা হয়। এটির উচ্চতা ৪৮১ ফুট এবং এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমি জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে। গিজার পিরামিডটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল আনুমানিক ২০ বছর। এতে আনুমানিক ১ লাখ শ্রমিক খেটেছিল। এই পিরামিডটি তৈরি হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে। পাথর খন্ডের এক একটির ওজন প্রায় ৬০ টন, আর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট। পাথরগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল বহু দূরের পাহাড় থেকে।

পাঁচ হাজার বছরের পুরানো এসব স্থাপনায় খোদাই করা চিত্রে দেখা যায় বিশাল বিশাল স্তম্ভকে স্লেজে করে পরিবহন করা হচ্ছে; অনেক মানুষ রশি দিয়ে সেই স্লেজ টানতে টানতে নিচ্ছে। স্লেজ টানা মানুষের মধ্যে একজন পানি ঢালছে বালির উপরে। এর কারণে ঘর্ষণ প্রায় অর্ধেক লাগে। এভাবেই নিয়ে পিরামডের দেয়ালে বসানো হয় আড়াই টন ওজনের এক একটা ব্লক।

তথ্যসূত্র: পিরামিডের ইতিহাস গ্রন্থ

আরো পড়ুন- সাঈদ কামালের গল্প – অপরুপ দোজখ