হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতাগুচ্ছ

মাথার ছাদ

মাথার ছাদ

আসলে জলের উৎসভূমি

ফোঁটা ফোঁটা জলে সারাদিন ভিজে থাকে সে

 

উড়ে গেলে ছাদ

রোদ এসে ভেজে দেয় সব

 

ফোঁটা ফোঁটা জল তখনও পড়ে যায়

শুধু নিজের মনে করে কেউ তা মাথায় ফেলে না।

 

 

তুমি এলে

তুমি এলে না-র ওপর

কখন চোখ বুজে ফেলেছি নিজেও জানি না

 

তুমি এলে না

কতবার বললাম

 

তুমি এলে কি হতো?

 

বৃষ্টিতে ছাতা ভুলে গেলে রাগ হতো না

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই আরও একটা চা নিতাম

ভীষণ গরমের পর

ভেতর বাড়িতে একটানা বৃষ্টি হতো

গল্পটায় ‘আমি পর্ব’-টা হঠাৎ করে থেমে যেত না

 

তুমি এলে সত্যিই কি হতো আমি জানি না।

 

ফলো করুন- সাহিত্য পত্রিকা

 

জুতোর কান্না

একশ বছর আগে মাঝরাতে

হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে যাওয়া একটি বিড়াল

আজ দুপুরে জুতোর কান্না শুনতে পেলে

পাহাড়ের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা

খড় আর খোলার চালের বাড়িগুলো

আরও নতুন কেউ দেখে ফেলার আগে

কাগজের মতো গুটিয়ে ফেলছিলাম

 

প্রাতঃভ্রমণের কয়েকজন সঙ্গী

জুতোর ভেতর থেকে শুনতে পাচ্ছিল পায়ের ডাক

আর আমরা ভয় পাচ্ছিলাম

বাজের সঙ্গে পিতামহদের কান্না ঝরে পড়ার।

 

*হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়: কবি, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 

আরো পড়ুন: শাদাত আমীনের গল্প- জলচোরা তিথি