একগুচ্ছ কবিতা: নাহিদা আশরাফী

 আমি আসলে কিছুই জানি না

ফেসবুক স্ক্রল করে করে ক্লোদিং, ফেসিয়াল, শেভিং ক্রিম, ট্রিমার, ব্রা প্যান্টির অনলাইন শপিং, নকল চুল, ঈদের বাজার, পূজোর শাড়ি, সুশীলদের বাণী দেখেই যাচ্ছি।

 

কেন দেখছি ; জানি না।

 

হাতের কাছে রুমি, মান্টো, রবার্ট ব্লাই, সিলভিয়া।পাতা ওল্টাচ্ছি, একটা রেখে আরেকটা হাতে নিচ্ছি।

 

কেন হাতে নিচ্ছি, কেন পাতা ওল্টাচ্ছি ; জানি না।

 

শুতে গিয়ে এপাশ ওপাশ করি। মোটা  কাঁথা পা থেকে সরিয়ে রাখি। শীত না  গরম এই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। খাট থেকে  নামতে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলে ধাক্কা খাই,  রাতের কাছে নালিশ জানাই। অন্ধকারের চোখ রাঙানি দেখে কুইকুই করে ল্যাজ গুটিয়ে খাটে ফিরে পিঠ চুলকাই।

 

অবশ্য কার পিঠ চুলকাই ; জানি না।

 

মেয়েটার বয়স যখন চার বা পাঁচ তখন একদিন আনন্দে চিৎকার করে বল্লো , ‘মা, মা আমি বাতাস  দেখেছি।’ আমি বললাম, ‘ধুর বোকা, বাতাস দেখা যায় বুঝি?’ সে  আঙ্গুল তুলে দূরের চিমনি দেখিয়ে বিজ্ঞের মত বললো, ‘যখন কিছু ফুটতে বা  জ্বলতে থাকে, তখন বাতাস দেখা যায়।’

 

ইদানীং আমিও বাতাস দেখছি।

কেন দেখছি তা জানি না।

 

আরও পড়ুন- শায়লা সিমি নূরের কবিতা

 

 রুহ ও রুহানী

চুমু

খাও বলেই স্বাদের প্রশ্ন আসে

অনুভব করো

দেখবে ডানা ছাড়াই ভাসছো বাতাসে।

 

প্রেমে

পড়ো বলে থাকে ওঠার তাগিদ

কেবলা ভাবলে

সিজদায় পাবে তুমি রুহ জাগা ঈদ।

 

 

 নিখোঁজ সংবাদ

একবার সবুজ ঘাসের মত স্বপ্নের প্রেমে পড়লাম । অথচ বাস্তবতার ঘোড়া দাবড়ে ফিরে এসে দেখি স্বপ্ন ও সবুজ ঘাস দুটোই হলদেটে হয়ে গেছে ।

 

এক অর্থনৈতিক খরার মৌসুমে ইচ্ছের সাথে ঘর বাঁধলাম  । পরে যখন অর্থ এলো এবং চাইলেই ইচ্ছেকে ওড়াতে পারি বেলুনের মত , তখন ইচ্ছেটাই  শয্যাশায়ী।

 

একদিন কবি হতে চেয়েছিলাম। নির্মম অভাব আমাকে এতটাই চাবকালো আর চোখ রাঙালো যে, আমি নিজেই ভুলে গেলাম আমাকে। কবি তখন কেরানি।

 

এখন আমার সব আছে – সুরম্য বাড়ি, সুরক্ষিত ব্যাংক ব্যালেন্স, আস্তাবলে তেজি ঘোড়া , কলমদানীতে সোনার কলম…

 

শুধু ইচ্ছে আর স্বপ্নটাকেই কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি ।

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা