কাজী শোয়েব শাবাব এর কবিতাগুচ্ছ

এবার দেখা হলে

এবার দেখা হলে হাত ধরে নিয়ে যাব চায়ের স্টলে

খুব জ্বালাব

মনভাঙা ধোঁয়া বুকে ঢেলে বলব—

এখনও এভাবে একটা হাত ধরতে খুব ইচ্ছে করে!

 

খিদে পেয়েছে?

কী খাবে বলো?

দোকানে কিচ্ছু নেই

বুকের ভেতরে শুধু লাব-ডাব লাব-ডাব

আরও আছে মিশমিশে ফুসফুস ফ্রাই

খাবে নাকি? বের করে দিই?

 

রাগ করো না

ভালো কথা ভুলে গেছি

মাথার ভেতরে শুধু ঘাই মারে স্মৃতি-কৈ

ছেড়ে যাবার পর সেভাবে বলো আর

বেঁচে থাকা হলো কই?

 

আরও পড়ুন- কাজী বর্ণাঢ্যর ছড়া

 

সেন্টমার্টিন

যখন তুমি প্রবালদ্বীপে

তখন অনেক দূরে বসে ভাবি

কেয়া ফল কেন ধারণ করেছে প্রবাল আদল?

ভূমির গভীরে নামতে নামতে

দেখে ফেলেছিল নাকি প্রবাল শরীর?

 

এতদূর থেকে যে নামেই ডাকি

শুনতে পাবে না নাগর

দূরত্বের আলপনা মাঝে বিশাল বঙ্গোপসাগর।

 

আরও পড়ুন- বেবী সাউ এর কবিতা

 

গাঁদাবাগান

বাড়ির পুবদিকে সূর্যের প্রথম আলো পড়া মাটিতে

গাঁদা ফুলের বাগান ছিল।

কত মানুষ আসতো, সময় কাটাতো

যাবার আগে ছবি তুলে নিয়ে যেত।

একদিন ঢোঁড়া সাপ দেখা গেলে রটে যায় গোখরা।

গাঁদাবাগান হয়ে ওঠে ভয়ানক জঙ্গল!

পরদিন কেটেছেঁটে সব সাফ, পুড়িয়ে ভস্ম।

বিরান শ্মশান…

 

এত বছর পরেও আব্বাকে দেখি আলমারি থেকে

বের করে মুছে রাখে ইয়াশিকা ক্যামেরা।

সেই বাগানের মৌমাছি, প্রজাপতি, খয়েরি-হলুদ গাঁদা

আজও বেঁচে আছে পুরোনো ফিল্মের নেগেটিভ কৌটায়।

 

 

রাষ্ট্র

জঞ্জাল জমে গেছে রাষ্ট্র শব্দটায়

উড়ছে মাছি আর পেট ফোলা পলিথিন।

 

পরিষ্কার করবে কীভাবে?

‘পরিষ্কার’ শব্দটাই তো পরিষ্কার নয়।

মূর্ধন্য ষ-র পেটে কেউ বসিয়ে দিয়েছে ছুরি।

বাইরে নয়, ভেতরে অবিরাম রক্তক্ষরণ।

লাল ফিতায় আমাদের চোখ-মুখ বাঁধা—

গন্তব্য আন্ডারগ্রাউন্ড।

চিনতে পেরে দূর থেকে গরগর করছে—

কয়েকটি ব্লাডহাউন্ড।

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *