কবির হোসেন এর গুচ্ছ কবিতা

মুসাফির এবং মাইন বোমা

মুসাফির হবো বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম, প্রথম কদমেই দেখি আটকে গেছি মাইনের ওপর! এখন গাছের মতো দাঁড়িয়ে থাকি, আর পৃথিবী হেঁটে যায় পাশ দিয়ে। মাঝে মাঝে আমার বয়স জিজ্ঞেস করে, জিজ্ঞেস করে আয়ু। আমি তখন মাইনের দিকে তাকাই, তার টেকসই অনুমান করি। আর ভাবি— তার আয়ুর সাথে কেমন করে বেঁধে গেল আমার আয়ু!

কোনো কোনো মুসাফির শুনেছি মরা মাইনের ওপর দাঁড়িয়ে নাকি কাটিয়ে দিয়েছে গোটা জীবন!

 

 

সুইসাইড নোট

ব্ল্যাকবোর্ডে নতুন খড়িমাটিটি কোনো মাস্টারি করেনি, নিজের সুইসাইড নোট লিখে গেছে। তার আত্মহত্যার পেছনে ব্ল্যাকবোর্ডের ভূমিকা কতটুকু, কতটুকুই-বা মাস্টারের, এসব লিখে গেছে। লিখে গেছে জীবনে বেঁচে থাকার অসার্থকতা, চলার পথের নানা প্রতিবন্ধকতা।  লিখে গেছে নিজের অকালপ্রয়াণের কথা, অল্প বয়সেই অধিক যাপনের ব্যথা। এত এত কথা যে, লিখতে লিখতে খড়িমাটি মাঝপথেই শেষ হয়ে যায়, এমনকি নিজের স্বাক্ষর করার হায়াতও পায়নি।

কেউ বুঝতে পারছে না এখন, সুইসাইড নোট লিখতে গিয়ে কে যে কাটিয়ে গেল গোটা জীবন!

 

 

পারিবারিক পূর্ণিমা

এই গাঢ় অমাবস্যা রাতে, মা সুইচ টিপে টিপে আকাশে তারা জ্বালাতে চাচ্ছেন। চাচ্ছেন আমাদের অন্ধকার পৃথিবীতে কিছুটা আলো নিয়ে আসতে। কিন্তু সুইচ টিপে টিপে মা বুঝতে পারছেন অমাবস্যার আকাশে সবকটা তারাই ফিউজ! তবুও সবকটা সুইচই টিপে যাবেন মা। চেষ্টা করে যাবেন অগণিত তারার সর্বশেষটিও দেখে নিতে।  প্রতিটা তারার বিপরীতে মা প্রতিটা সুইচ অন করে যাচ্ছেন কেবল…

একদিন নাকি আমাদের মেইন সুইচ অন হবে, আকাশেও জ্বলে উঠবে পূর্ণিমার চাঁদ!

 

আরও পড়ুন- আলফ্রেড খোকনের কবিতা

জয়েন করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা