অক্ষরের অট্টহাসি- একগুচ্ছ কবিতা: জাহানারা পারভীন

একদিন ফিরিয়ে দেব সব অস্বীকার

 

মাফ করে দেব ঐ শীতকালকে,

মাথা নীচু করে দাড় করিয়ে রেখেছে পাচটি বছর

যে বলেছে, খবরের কাগজের সঙ্গে ঘর থেকে

বিদায় করা যায় পুরনো বছরের ক্রোধ, অক্ষরের অট্রহাসি

 

আয়নায় ভেসে উঠবে অপাঠ্যমুখ,দেবতার রক্তে ভেজা শার্ট

সংবিধান থেকে খসে পড়া অধিকার

 

কিছুটা কমে যাবে মরচে পরা দায়ের বয়স…

সে জানে, নত হতে হতে

কেন মাটির কাছাকাছি নেমে আসে ডাল

 

মনের মরচে গুরুত্বপূর্ন খুব

সে তৈরি করতে পারে যেকোনও ইঙিত

জাগিয়ে দিতে পারে ঘুম পাড়িয়ে রাখা শরীর

 

চোখের সীমানায় শর্ষে ফুলের হাসি

হলুদ পাখিটাকে উড়িয়ে দেব

আমার মুঠোতে যে ঘুমিয়ে পড়েছে

 

একদিন বলে দেব_

আমাকে কতটা রক্তাক্ত করেছে তোমাদের বাঘনখ…

 

 

 

নিমগাছের পরিচয়পত্র

 

নিমগাছটাকে চিনতেই পারিনি

ভেবেছি সে ছাতিম, সেগুনের সন্তান

 

সে বলেছে সব হাতেই থাকে কিছুতিতে রেখা

সরু পথ ধরে কিছুটা হেটে আসা যায়

আবার ফিরে আসতে হয় পুরনো পৃষ্ঠায়

 

যেমন ফিরে আসে

হুইল থেকে সুতো নিয়ে ছুটে যাওয়া মাছ

শিকারির হাতের  নাগালে

 

পড়িবিদ্রুপ, বিদ্রোহ,

মুখোশেরআড়ালেথাকামুখ

শিং মাছের ঘাই খেয়ে হেসে ওঠা মানুষ

 

দেয়ালে টানিয়ে রেখেছি জেদ; ফ্রেমে নিম কাঠ,

যার নাম ধরে ডেকে উঠেছিলাম একদিন…

 

 

 

 

 সেলাই করা ছায়া

 

পায়ের জুতা জোড়া আমার নয়,

অন্য কারো মাপের;

 

ভ্রমণ বিষয়ক গবেষণা বলে

হাটার জন্য গুরুত্বপূর্ন পথের দৈর্ঘ্য

গন্তব্যে পৌছতে মনে রাখা চাই কালিম পাখির নাম

যে হীরামন পাখি হয়ে পিছু ডাকে

ফিরে তাকালেই পাথর হয়ে যায় শরীর

 

তোমাদের হয়তো মনে আছে,

গত গ্রীষ্মেজঙ্গল থেকে কুড়িয়ে এনেছি

সেলাই করা ছায়া ছায়া

পায়ে নতুন বাটা জুতা

 

একজোড়া জুতার জন্য আর

দাড়িয়ে থাকব না অচেনা গোরস্তানের সামনে

আমার জন্য রেখে গেছে কেউ একজোড়া কাঠের খড়ম

 

যারা কোনও দিন হাটতে বের হয়নি আমার সঙ্গে।

 

আরও পড়ুন: এটা একটা প্রেমের গল্প হলেও পারত – তানজিনা হোসেনের গল্প

ফলো করুন: দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা