একগুচ্ছ কবিতা: শব্দনীল

তোমার কোমরে লেগে থাকা,

ক্ষয়প্রাপ্ত দিনের এক চিমটি রোদ্দুর দিও,

দুপুরে পেটপূজা করবো।

 

– আহার

 

 

এমন ঘন দুপুরে ঠাস করে চুমু খেতে ইচ্ছা করে প্রাক্তনফুলে।

 

কথাটি শুনে অবিশ্বাসের চোখে বর্তমান, বারবার আয়নায় দেখছে। কোথায় তার কমতি রেখেছে ঈশ্বর!

 

আমার খুব বলতে ইচ্ছা করছে ফুলের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নেই। আছে শুধু স্মৃতির। কথাটি ভুলও হতে পারে কিন্তু খেলাটা তো সময়ের!

 

তার এবং স্মৃতির সব দোষ, আমি বা আমার পূর্বপুরুষের কোনও দোষা নেই।মানবো না,  আঙুল তুললেও ।

ফুল তো ফোটেই আকর্ষণের জন্য!

 

– অদ্বিতীয় টান

 

 

রোজ তোমাকে ফর্সা আপেল ফুলের গল্প লিখবো ভেবে,

লেখি, ইজরায়েলি গুলির থাবায় মটমট শব্দে;

ধরফর করে নারী ছেঁড়া পাখি কি করে হয় মুক্তি,

ওদিকে সাদা পৃষ্টায় জেগে ওঠে আর্তনাদে কাঁপা ফিলিস্তিন,

রক্ত জমাট বেঁধে

ঝকঝকে নীল আকাশ হয়ে যায় কালসিটে!

 

আমি আঁকড়ে ধরি মানবতাকে, ডাকদি

বিশ্বাস করো, শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে

চিৎকার করে, রক্তাক্ত ফিলিস্তিনি শিশুর মতো

চিৎকার করে, বোমার আঘাতে আল আকসার জমিনে লুটিয়ে পরা মুমিনের মতো

চিৎকার করে, কাফনে মোড়ানো সন্তানকে কোলে নেওয়া বাবার মতো

চিৎকার করে, বুক চাপড়ানো মা’য়ের মতো

চিৎকার করে, ভাই হারা বোনের মতো

চিৎকার করে, বোন হারা ভাইয়ের মতো ডাকদি

মালিককে, পরওয়ারদিগারকে

কই!

কোনও সাড়া পাই না, পাই না কোনও শব্দ!

 

না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে লেখি, কাটাকাটি করি

ডাস্টবিনে একটার পর একটা জমা হতে থাকে ছেঁড়া পৃষ্ঠা!

 

তবুও তোমাকে ফর্সা আপেল ফুলের গল্প লেখা হয় না।

কারণ, তার শরীরে স্নিগ্ধ ভোর জেগে উঠে না বরফ কেটে

কারণ, তার রেনুতে প্রেম জমে ডানা ঝাপটায় না মুহুর্মুহু কামানের গর্জনে

কারণ,  তার মধুর পিঠে ইসরায়েলের চাকা চলে যায় রক্তাক্ত দাগ কেটে

আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি না,

আমরা নিশ্চয়তা দিতে পারি না

পারি না

পুঁজিবাদের মুঠো ভরা বারুদ খেতে চুষে।

যে নিত্য রক্ষীতার বসনে, বিছানায় তুলে আমাকে

আমাদেরকে।

 

ফিলিস্তিনেরাই ফর্সা আপেল ফুল

আমি চাইলেও লিখতে পারি না তোমাকে।

 

– ফর্সা আপেল ফুল এবং আক্ষেপ

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা

আরও পড়ুন: মোস্তফা হায়দারের কবিতা