একগুচ্ছ কবিতা: বিপ্রতীপ মোস্তাক

 জলকাদামাখা গা

একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে

আজও গায়ে জড়িয়ে আছি পুরনো পোশাক

অত্যাধুনিকতা চাদরেও যেমন জড়িয়ে থাকে স্মৃতি!

আলপথ ভেঙে আজও দৌড়ে যায় পা,

দৌড়াতে দৌড়াতে দেখা পায় কোনো এক বালিকার বাড়ি

জলকাদামাখা গা;

বুকের ভেতর লাফাচ্ছে

যেমন চোকরার ভেতর লাফায় পুঁটি শিং সোনালি কৈ-

প্রাণের আকুতি_বালকের স্বপ্নীল ভুবন

আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসকও কী ঠেকাতে পারে মরণ!

 

লাটিমের মতো ঘুরতে থাকে পৃথিবী আপন বলয়ে

কে যেন টেনে ধরে সুতো,

দ্রাঘিমাংশ থেকে পালটে যায় বাড়ির দাগ-নম্বর

 

জলকাদামাখা গা:

প্রেমিক দাঁড়িয়ে থাকে মূর্তির মতো!

প্রেমিকের মরণ নাই, মূর্তির প্রাণ নাই

মূর্তির প্রাণ নাই, প্রেমিকের মরণ নাই।

 

আরও পড়ুন: নাহিদা আশরাফীর কবিতা

 

চাঁদের সমাবেশ

বিগত সন্ধ্যায় ফেলে এসেছি চাঁদের সমাবেশ

ঠিকরে পড়া জোছনা আর শব্দের ধারাপাত:

পাংশু হয়ে আসা জীবন যেনো মরণোত্তর খেতাব!

 

নিঃশ্বাসের তসবিহতে জিকর করি আয়ু

অশ্রুত চোখে টগবগ করে হাউসে কাওসার

মানজিলে আরশে আজীম মুনতাহার প্রভাব:

 

হৃদয়ের মারওয়া থেকে প্রেমের সাফা

পার্থিব নির্বাসনে পায়চারি করে দুর্গত-পা;

জমজম কূপ;

ভাগ্যের জায়নামাজে সেজদাবনত কপালের রেখাপাত,

 

স্নায়ুর অলিন্দে ফুটে মনোরম মনোবাসনা

লৌকিকত্ব ভর করে ইহলৌকিক ভ্রমণ কিংবা,

নির্বাসন; শেষে ধ্বংসস্তুপের মতো দাঁড়িয়ে থাকি ভীষণ অনাথ!

 

 

আসমানি হেলা

কে-বা জানি নিয়েছে ফের পিছু তার

কী যেনো নিয়ে গেছে বাকি নাই আর

যদিও হৃদয়ে ভরাট জোছনা করে তার খেলা

সময় আঁধারে ডেকে যায় বান আসমানী হেলা!

 

সংহারে সংযত সংবর্ত পেরিয়ে যে-ই দিন গেছে

সকল শকলে ঘরোয়া উঠোনে স্মৃতি হয়ে মুছে

কবরের বুকে একা পড়ে থাকা ফুলের পাপড়ি

জাগবে কী ফের কুসুমে সুরভ মালিহার বাড়ি?

 

ফলো করুন: দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা