আবদুর রবের তিনটি কবিতা

 কিউরেটর

জানি না, কোথায় গেলে পাবো আমি তারে…

প্রাণবর্ণ সহবত;

 

সারাক্ষণ অ্যামিবা-নারীর

নীল-মনোক্রম কষ্ট দেখি;

শিশু কোলে নিয়ে

আগুনের নদী পার হয় তার প্রেম;

গোধূলি সন্ধ্যায় লুপ্ত বিছানা-অতীত!

 

এ পৃথিবী আন্তঃনাক্ষত্রিক-

মেয়েটির কাচের শরীর,

ভেঙে পড়বে যে কোন মুহূর্তে!

 

নই পতঞ্জলি,

জানি না কী করে বশীভূত করে

অস্থি’র চিত্তকে…!

 

চিড়িয়াখানার

কিউরেটর আমি

পশুদের জীবনযাপন

অভিবাসনের দৃশ্য দেখে কেটে যাবে

আমার কর্তব্যকাল…।

 

 

ক্ষয়

কাউকে বলে না, তার স্বপ্নসাধ ভেঙে দেয়

সংসারের ক্ষয়। দুর্বোধ্য সমস্যাগুলি

দেখে মনোযোগ দিয়ে আর একা একা

খেলা করে সারা ঘরময়। অনুতাপে

আমি তার করুণ মুখের দিকে তাকাতে পারি না।

 

হঠাৎ হঠাৎ জ্বলে ওঠে বনভূমি, গৃহকোণ;

ভয়ে গ্রাস ফেলে সে তখন ছোটে দিগ্বিদিক।

শিশু নিগ্রহের এমন মহান প্রাকিতিক পরিবেশ

তার কচি কলজেটাকে ছিঁড়ে খায়।

 

খেলনা ভাঙে নিজের পৃথিবী,

ভেঙে ভেঙে ক্লান- তবু নিরপেক্ষ- বেলুন ওড়ায়;

স্বপ্ন দিয়ে ভরা তার প্রাণের বেলুন।

 

 

 উপমনসতত্ত্ব

ঘোড়ার শরীর দেখে শিহরণ জাগে,

কুচকাওয়াজ করে ওঠে

অবদমিতের বিলাপ-বাসনা

শঙ্কিত পোশাক পরিচ্ছদ

ছিটকে পড়ে এদিক-সেদিকে

ঘরময় খুরের আওয়াজ।

 

ঘামে ভেজা ঘোড়ার শরীর

যখন জানালা টপকে চলে যায় ধমনী কাঁপিয়ে

পানি পিপাসায় ঘুম ভেঙে যায়।

মনে মনে আওড়াতে থাকে স্বপ্নের সংলাপ,

একই স্বপ্ন বারবার!

 

কখনো কখনো ভয় হয়

যদি সব জেনে যায়!

ঘর-গেরস্থালির ফাঁকে ফাঁকে

উঠপাখি ডুবে যায় স্বপ্নের মর্মরে।

 

যা হওয়া উচিত তা কেন যে স্বপ্ন হয়!

নিজের মনকে ঠোকরাতে থাকে নারী

নিজের মনকে…।

 

আরও পড়ুন- নাহিদা আশরাফীর কবিতা