নীলা হারুন এর গুচ্ছ কবিতা

আমার কামারুন

শিশু তাকে যদি তুলে নিতে পারতাম কোলে,

সকালের রোদে হাঁটতে হাঁটতে আংগুলের ডগায় দেখাতাম

আমার দেশের সোনা সোনা কুঁড়েঘরগুলি।

কিশোর তাকে যদি দেখাতে পারতাম

পাতাভেজা ঘাসজিন্দা বৃষ্টি,

বনঘেষা দিঘীর উপর থেকে যদি পারতাম

তুলে পরাতাম পানির মুকুট-

যে মুকুট মীকাইল (আঃ) গড়ে দেন বর্ষনকালে।

তাকে যদি শোনাতে পারতাম খেজুররস ফযরের আযান;

দেখো নবী, তোমার দোস্তের দাওয়াত এসে গেছে!

 

নতুন চুলার ধারে বসে অতি যত্নে গড়তাম চাঁদদুধে ভেজানো সেমাই পিঠা বেলের শরাব।

হাতের তালু ক্ষয়ে ক্ষয়ে দাগ পড়তো তবু

নারিকেলের নাড়ু গোল সাথে আখজল।

যদি তাকে শোনাতে পারতাম ঝিঝির ডাক

গোয়ালের হাঁক

পাখিদের ধবনি,

যদি যুবক তাকে উপহার দিয়ে পালাতাম জামফুল আমের মুকুল;

 

অথবা যদি আমি নিজেই শিশু হয়ে

অযথাই কাঁদতাম তার দরজায় দাঁড়িয়ে?

হাসনাইনের মত সাহসী না হলেও নূরচাদরের প্রান্ত ধরতাম টেনে।

যদি আমি তাকে ঠিকঠাক ভালোবাসতে পারতাম!

 

 

সওয়াল

কেন আমাকে বাইতুল্লাহতে যেয়েই “এসেছি ” বলতে হবে

কেন তোমাকে আমার হৃদয়ে রেখে পড়বোনা লাব্বাইক?

আম্মা হাজেরার চোখের জল মনে করে ভেজা চোখে কেন আমাকে জানান দিতে হবে আমি এসেছি

এত শর্তের পরও অপেক্ষায় আছি

তবু তুমি আমাকে ডাকোনা

কেন এত অভিমান করলে যে

আমার অভিমান তুমি পাত্তাই দিচ্ছনা!

তুমি কি আমাকে দিবেনা পাহাড়ের কোলে নদী বেয়ে চলা সবুজ বাগানের ছায়াময় ঘর?

কেন দিচ্ছনা তার ছাদ ঢেকে বরফ অথবা বৃষ্টিতে

কেন তুমি ফুরসত দিচ্ছনা তোমাকে চাওয়ার

তুমি তো আমাকে ঠিকই আগলে রেখেছো

তীব্র ক্ষোভের পরেও।

 

আরও পড়ুন- সব্যসাচী মজুমদারের কবিতা

 

কোল্ডমিট

রংগালয়ে কেউ ঠান্ডা গোশত চায় না

এমনকি মেজবান অথবা চল্লিশার গোশতও

হওয়া চাই ভাপ উঠা সতেজ

আমি বুঝিনা লোকেদের ঠান্ডা গোশতে কি অসুবিধা

তাতে তেল উঠে আসে স্বীকার করি

কিন্তু তাজা গরম গোশতের তেল আছে জেনেও লোকেরা তা দেখতে চায়না।

তারা খেয়ে ফেলে এইভাব করে যেন কোন ক্ষতি লুকানো নেই,

যেভাবে পাপ জেনেও নর্তকীর পায়ে পায়ে ঘুরে চোখেরা

মিথ্যা বলা দোষ জেনেও যেভাবে বানিয়ে বানিয়ে আমরা গল্প লিখি

সেভাবেই রংগালয়ের মাতাল পেগের পেগাসাস ছোটায়।

অথচ সেখানেও আছে  মাংসের শুটকি

পরদিন সকালে পুনরায় জ্বাল না হলে

কেউই মুখ দিবেনা

কুলখানিতে যেভাবে ইতরেরা মাংসের চাক চেপে ধরে রুটি দিয়ে-

সেভাবে বড় থাবা করে ভদ্রলোকেরা সীতানাশে এগোয়।

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা