সব্যসাচী মজুমদার এর কবিতাগুচ্ছ

আলুচাষী

 

এই যে সমোচ্চারণের তুমি ঈষৎ ভাঙো। কিন্তু পূর্ণ প্রহেলিকাময় দৈর্ঘ্য মাপিনি

সেইসব গন্ধহীন স্টেশনের ভেতরে

আবিস্কার করতে পারিনি

ঝরনা শ্যাওলা ও ধারাবিবরণী

 

কতদূর ছড়িয়ে গিয়েছে

অথচ আলুর চপ ভাজতে ভাজতে এখনও স্নান করেনি সতীশ

একটা সাঁৎলাগন্ধ ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়েছে অথচ নিভন্ত গাছকে আমি দেখতে পাচ্ছি না

 

একটা বাস চলে যাচ্ছে

একজন আলু চাষী…

 

 

আজরখ প্রিন্ট

আজরখ প্রিন্ট দেখতে দেখতে হঠাৎ দমবন্ধ জেগে উঠলাম। টিনের চালের তলা দিয়ে গলগল ধোঁয়া ঢুকছে

একটু ঠাহর করে বুঝলাম বন্ধ জানলার ওপাশে শুকনো পাতাপুতি পোড়াচ্ছে শরিক।

আরও বুঝলাম এবার জল খেয়ে অন্য ঘরে যাওয়া উচিৎ।

 

ভাগ্যিস আজরখ প্রিন্টের কালো কাজগুলো দেখতে দেখতে আমার মাথা ঘুরছিল আর আকন্দের ঘ্রাণে ভরে যাচ্ছিল বালি পেতে বসে থাকা পৃথুলা ভার্জিন

 

ষাঁড়ের মাংস

(ক)

নিচু উদ্ভিদ এসে ঘরের মধ্যে ঢুকলে

মাথা কেটে দিই,ডালপালা ছাঁটি

গাঁজার মালিক আমার গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে

নদী যতদূর চলে যাবে তবু

বাতাস ঘুলিয়ে দেবে না

 

নদীর ভেতরে লাফ দিয়ে ঢুকে

খুঁজে দেখবে না

কোথায় লুকোনো রয়েছে ষাঁড়ের মাংস?

 

(খ)

পানকৌড়ির মতো দেখে যাও

মালকোষটির শরীরে বসেছে পাখিরা

 

বৃক্ষ ফুটেছে চারিদিক

 

আমি বসে আছি

খাবার ইচ্ছে ভুলে যাওয়া এক মানুষের পাশে

ছেলে বসে আছে

 

আকাশে বিরাট সাঙষ্কৃতিক সন্ধ্যা…

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা