সাইফ সিরাজ এর কবিতাগুচ্ছ

আতাফুলের ঘ্রাণ অথবা ফানার পথ

সুবহে সাদিকের একটু পর; মুসল্লি পায় আতাফুলের ঘ্রাণ

ভেতরে গভীর মায়াবন উতলা হয়েছে শোনো! সুবহান

তাহাজ্জুদে অলোক আয়না দেখার আগে মুখের অভিধান

অনুবাদ করেছে আমার; জীবনের শব্দার্থে নাফরমান!

 

মসজিদে নিথর কার্পেট যেনো অবিকল আমার নিঃস্ব বুক

সেজদাবিহীন প্রতিনিয়ত চেয়ে ফিরে প্রেমের কান্নার সুখ

ক্বালবের অতল-দেশে আমিত্বের সমাধি; হলো খুব উৎসুক

গাফেল আমার; চেতনার কপাটে লিখে দিয়েছি মাবরুক!

 

আযান হওয়ার সময় যেনো কান্নায় ডাকে হাজার মুয়াজ্জিন

মনে মনে গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন!

নাফরমানির ব্যাপক আয়োজন করে যায় মানুষ এবং জ্বীন

আমি তখন গোপন ক্ষমার আশায় পাপের ঘরেই করি ঋণ!

 

দিনের আলোয় যেই পৃথিবীর; পথিক আমি হয়ে যাই নির্ভার

সে তো নির্বোধ! তার প্রেমবিনা কোনভাবে দেবে না নিস্তার

কী এক! রঙিন শাড়ির ভেতর বৃদ্ধার কঙ্কালে ভোগের সম্ভার

খোলার ভুলেই! গভীর মোহে আটকে হই; মোহগ্রস্ত বৃদ্ধার!

 

ফানার পথিক আমার আয়নায় আমার চেহারা কোথাও নেই

রোদের চমক বালির ওপর আয়নার মতো নিরন্তর থাকবেই

অথচ আমি আমাকেই রোজ; খুঁজে ফিরি নিজের অজান্তেই

আমার মুক্তির সবগুলো পথ অবশেষে পাই তোমার কাছেই!

 

 

স্থিতি বিন্দুর প্রেমে

এক.

আমি এসেছিলাম পথহীন পথে। পেছনের সমস্ত চিহ্ন মুছে দিতে দিতে দেখলাম পথ নাই। পথ নাই ফেরার। পথ নাই এগিয়ে যাওয়ার। দীনতা জেনেই ‘আমি’ হয়েছিলাম। খুব সহজ ছিল বায়বীয় হওয়া। আরো সহজ ছিল; থেমে থাকা, পথ নেই ভেবে নিজেই পথ হয়ে যাওয়া, ভাষার ভেতরে ধ্বনির সিম্ফনি তুলে নিজেকে ভুলে যাওয়া অথবা নিয়তির প্রতি বিক্ষোভ রেখে ক্রমশঃ ক্ষয়ে যাওয়া; পথের অপেক্ষায়!

 

দুই.

গন্তব্যহীন পথিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে; আমি চেয়েছিলাম অবিরাম পথ। অথচ পৃথিবীর কোথাও চলার জন্য রাখিনি পথের মানচিত্র। আসার ভূগোল থেকে যাওয়ার মঞ্জিল ভুলে, পেয়েছি শূন্য ‘আমি’। পথের জন্য কুরবানী হয় পাহাড়, ঢেউ, আবেগ কখনও বাতাস। আর আমি পথকেই কুরবান করে থামিয়ে দিয়েছি ফেরার এবং যাওয়ার গতি।

 

তিন.

মধ্যবর্তী আমিত্বে ঠাঁয় দাঁড়িয়েছি। অথচ দাঁড়ানোর ঐতিহ্য নাকি ‘গন্তব্যে’ অথবা ‘অপেক্ষায়’। স্থিতি বিন্দুর প্রেমে পথের ‘পেছন’ মুছে ‘সামন’ হারালাম। নিজস্বতা কিনতে চেয়ে কিনেছি আবেগ; দোকানি দিল ঐতিহ্য, প্যাকেট খুলে দেখি কেবলই ‘আমি’। এরপর ‘আমি’ বেঁচতে গিয়ে দাম না পেয়ে ছুঁড়ে ফেললাম। অবাক ব্যাপার; ‘তুমি’র পদাঘাতে সেই ‘আমি’ পথ হয়ে গেল। ততক্ষণে বাকি থাকলো কেবল শূন্যতা।

 

চার.

এরপর? পথ আছে নাকি নাই! ছিলো নাকি ছিলো না! থাকবে নাকি থাকবে না! শব্দ, ধ্বনি, পরিভাষা, গন্তব্য, আমি কিংবা বিন্দুর হিসেব-নিকেশ জুড়ে গমগমে নিরবতা ছাড়া সব প্রশ্ন ডুবতে থাকুক!

 

আরও পড়ুন- মজিদ মাহমুদের কবিতা