নৈরিৎ ইমুর কবিতাগুচ্ছ

যুদ্ধ

সন্দেহ, বিপুল পারমানবিক শক্তি সমৃদ্ধ

মারণাস্ত্র

 

বিষ বলে তুমি যা জানো, তা ধারণ করেছে অন্তর

কেননা মানুষের হাস্যোজ্জ্বল রূপ একটা ফাঁদ

 

বন্ধু এসো এই অস্ত্রভাণ্ডারে, এখানে প্রেম মজুদ ছিলো

কিন্তু কোনো কাজে আসে না এমন বস্তু, সার

এই যুদ্ধে শ্রীপুষ্পসম হাস্যকর

 

আসো ট্রিগার টেনে দাও

যা তোমার জিহ্বা দ্বারা পরিচালিত

 

আর আমি কথার বুলেট বুকে ধরাশায়ী হই।

 

ঘুঙুর ক্রন্দন

জোরালো এই সংকট, শানিত অস্ত্রে গেঁথে রই

কৌণিক আঁচ আগুনের, আরও ঝলসে নিই নিজেকে

 

আমি সন্ধি, যুথবদ্ধ— অঙ্গাঙ্গী আছি তোমাদের

তকলিফ শুধু আমারই; দুর্দশা, দৈন্যতা, অভিতাপ

 

ভাবি একদিন ভোর আসবেই

খসে পড়া সূর্যের রোদ্দুর

এইখানে নৃত্যের আসরে, বিদ্যুৎ ঠিক ঠিক ঝলকায়

 

ঘুঙুর, কাঁদো আরও কাঁদো

হৃৎ, বিদারক পদতালে থ্যাতলায়—

ঘুঙুর, কাঁদো আরও কাঁদো

বাজাও ক্রন্দন তোমার যন্ত্রণার।

 

 

 মেঘ উড়ে যায়

এসো মেঘ, ঝরো জল রাগিণীর সমভার

ব্যথিতের হৃত যন্ত্রণা দাও, করো নীল

যেনো কৃষ্ণ প্রভুর রূপে জাগ্রত হই

এসো মেঘ, গূঢ় মর্ম আঘাত করে লীন

 

দূরে বৃক্ষচূড়ায় বসা মিত্র পাখির

সুরে বাষ্প উড়ান দেখি আজ উদাসীন

ভাঙে প্রার্থনা ঘর, বোবা চিৎকারে কার

পোড়া বর্ষণে তার, সে কি শব্দ হারায়!

 

দুটো বন্ধ চোখের মাঝে শেল বিঁধে যায়

ঝরা রক্ত ফোঁটার লালে নীল একাকার

কতো বজ্রপাতের পরে ফর্সা আকাশ

প্রভু মেঘ উড়ে যায়, প্রভু মেঘ উড়ে যায়।

 

আরো পড়ুন- সোয়েব মাহমুদের কবিতা