সোয়েব মাহমুদ এর কবিতাগুচ্ছ

কবিতা পড়ার নিয়ম

দয়া করে অযু করে,

চুমু বিরতীতে অথবা নিন্মাঙ্গের ভারী বৃষ্টিপাতে

কবিতা পড়তে আসবেন না যেনো।

কবিতা অশ্লীল –

কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ধর্ষিতার জারজ এক।

দয়া করে হস্তমৈথুনের বিপ্লবীরা,

অযু করে কবিতা পড়তে আসবেন না যেনো।

 

 

১৬ই ডিসেম্বর

সাঁতার পেরিয়ে নদীটার কাছে তোমার বাড়ি,

আমি বৃষ্টি ভিজে দাঁড়িয়েছিলাম গোটা একটা জীবন,

তুমি জানতে পারো নি।

তোমার দেখা হয় না।

তুমি বুঝতে পারো না।

আকাশে ভিজে যাওয়া পাখিদের খোঁজ কেইবা রাখে রোজ?

 

আরও পড়ুন- পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা

 

 জুন মাসের দিকে আঙুল

একদিন ঘুমিয়ে পরবো , খুব দ্রুত।

মাথার উপর ঘুরতে থাকবে বৈদ্যুতিক পাখা।

ভুলে যাবো এইযে এখনও শহরে জ্বলে আছে বাতি,

শহরে সবাই কি ঘুমায়? এইযে হাইওয়ে ধরে

ঝুলে থাকে রাত্রিকালীন শাঁ শাঁ বাসেরা,

শহরে সবাই কি ঘুমায়?

এইযে খুব ভোরে পৌছাতে হবে সীমান্তে,

ওখানে অপেক্ষায় একটা সাদা পাখি,

বিধবার বেশে আমাকে নিয়ে যাবে

সাতই জুন সকাল সাতটা সাতাশ।

শরনার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে,

ওপারে যাবার কথা নেই আমার,

ফিরে আসার কথা নেই এপারেও।

 

শুধু শুধু গ্রামোফোন বাজাবে গান –

” পথে পথে দিলাম উড়াইয়া রে আমার চক্ষেরো পানি। ”

 

হেসে উঠবে আরেকটি প্রাচীন বাড়ি, যার ঘরে –

জানলায় ঠাই দাঁড়িয়ে আছে সবুজ কামিজে হলুদ

ওড়নার সাদা একটা সালোয়ারের ফিতে খোলা

নগ্নতা- খুব বেশি বাঁচবে বলে ষোলো দিনেই খুজে

নেয় নতুন পুরুষ! মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে

হয় পুনঃসম্প্রচার নীতিমালা উঠে গ্যাছে, রোদের

মা- তুমি কি এখনো শোনাচ্ছো সেই পুরানো গান

নতুন কানে? মাঝেমাঝে নিজের গলা টিপে

নিজেকে বোঝাই – চাইলে ফিরে আসতে পারতো,

পারতো নারীদের জন্য নির্ভেজাল সরীসৃপের বুকে

ঝুকে প্রস্তুতি নিতে অথচ সদাগতিশীল পরমাণু

চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়ে গ্যাছে।

 

শহরে কি সবাই ঘুমায়?

নাকি এইযে আমি, আমার মতন কেউ কেউ,

অনাদরের সস্তার সন্তান দৌড়ায় শুধু দৌড়ায়

একদিন জুন মাসের সাত তারিখ আসবে

ক্যালেন্ডারের পাতায়, একদিন সীমান্তে

কোন এক গ্রামের ঘড়িতে বাজবে সকাল সাতটা সাতাশ।

 

একদিন একটা একটানা গান গাইতে থাকবে

মোবাইল- বলা হবে একটা লাশ, একটা লাশের

পিঠে লেগেছিলো অবিশ্বাস, তবুও সাঁতরে গ্যাছে,

উকিল ছিলোনা বলে হেরে গ্যাছে, গণিতবিদ গ্যাস্টন

টেরি ফক্স জিতে যায় বরাবর। একটা লাশ পাওয়া

গ্যাছে।

 

শহরে কি ডোমপাড়া আছে?

আছে কি কবর খুড়ে বের করে আনা ফসিলের লোক?

আচ্ছা শহরে কি সবাই ঘুমায় কখনো কোনদিন?

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা