মজিদ মাহমুদ এর কবিতাগুচ্ছ

স্নান-ঘর           

 

তোমার স্নান-ঘরে আমি কখনো ঢুকিনি

স্নান-ঘর তোমার পবিত্র উপাসনালয়

যেখানে তুমি নিজের শরীরে বোলাও হাত

ময়লা ধুয়ে ফেল

জঙ্ঘার গভীরে দাও পানির স্পর্শ

প্রাত্যহিক ক্লান্তির পরে তুমি যখন অবসন্ন হও

যখন তোমার মন বিতৃষ্ণায় হয়ে ওঠে কাতর

তুমি তখন স্নান-ঘরে যাও

তোমার শাড়ি ও সেমিজ বক্ষবন্ধনী

তখন কেউ আর তোমার নয়

সারাদিন বুকের সাথে আগলে রাখলেও

স্নান-ঘরে তুমি তাদের ছুঁড়ে ফেল

কখনো পদদলিত করো-

ময়লাগুলো ঝেড়ে ফেল জলজ ফোয়ারায়

অথচ তারাই তোমাকে করেছিল রৌদ্রে রক্ষা

বিছানায় যাওয়ার আগে ছিল প্রিয়তম সঙ্গী

মানুষ আদতে স্বমেহনপ্রবণ

জলের যোনি থেকে তোমার যাত্রার শুরু

স্নান-ঘর হয়তো সেই স্মৃতির করে পুনরাবৃত্তি

স্নান-ঘর আদি-মাতা-  জলের কাছে সমর্পণ

যারা একদিন রাজাদের হাম্মাম খানায় সখীদের সাথে

তারাও তোমার সঙ্গে স্নান-ঘরে নৃত্য-সঙ্গীতে মাতে!

 

আরও পড়ুন- মাহফুজ সজলের কবিতা

 

কথা-পরিবার

 

তোমার কথা বলা শেষ হলে-

তোমার কথাগুলোর সঙ্গে আমি কথা বলতে থাকি

কথাগুলো তোমার সহোদর বোনের মতো

সখীদের মতো, দিদিমার মতো

তুমি না থাকলেও

ওরা আমায় ঠিকঠাক যত্ন করে

আদর করে উপহাস করে

দিদিমা-কথারা বলে-

কি গো জামাই-

তোমার খোঁজ-খবর রাখে তো আমার নাতিনি

একটু রাগি হলেও পাইছ কিন্তু সরেস

সখী কথারা বলে, বলেন তো জামাই বাবু

এমন কি জাদু করছেন আমাদের মধ্যমণিরে

তোমার সহোদর কথা-বোনেরা

আমার বাহুর মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে

কথার শাশুড়ি এসে বলে-

তোরা ছেলেটারে এবার একটু ছাড়

ঢের হয়েছে, নাওয়া-খাওয়া করতে দে

আর তুমি-কথারা দরোজার ওপাশ থেকে

মুচকি মুচকি হাসো আঁখির কটাক্ষে

কিছু না বলেও বলতে থাকো বলার অধিক

তুমি থাকলে কথারা উপেক্ষিত থাকে

কথারা গা ঘেঁসে বসতে চায়, পারে না

একটি কথার মানে উন্মোচিত হওয়ার আগে

আরেকটি কথা এসে হয় হাজির

কথারা যতই হোক তোমার আপন

তুমি থাকলে কথাদের দিকে থাকে না মন

আবার কথারা না থাকলে তুমি নির্জন দ্বীপকন্যা

কথারা এখন আমার কাছে আছে

তুমি নিশ্চিত স্নান সারো

করো কবরী বন্ধন

কপট হেঁসেল ঘরে যাও মায়ের আহ্লাদি মেয়ে

আমি বেশ আছি তোমার কথাদের প্রযত্নে।

 

আরও পড়ুন- বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা

 

বারিপাত

 

আজ পয়লা আষাঢ়

আজ মেঘবাবু এসেছে দুয়ারে

আজ মেঘের মধ্য দিয়ে তোমার উড়ে চলা

আজ মেঘেদের সংসারে তোমার আমন্ত্রণ

তুমি এখন বিমানের উইন্ড সাইডে

মেঘেরা আজ তোমার বধূবরণের সঙ্গী

সাজিয়েছে নানা বর্ণিল বরণমালা

মেঘেদের আজ নানা সাজ

কেউ নৃত্যের মুদ্রায় ধনুক তুলেছে

কেউ মেষের পাল নিয়ে যাচ্ছে

ভোজশালার দিকে

শাদা মেঘেদের ভাণ্ড ভরেছে দুধে

ঈশ্বরের দুষ্প্রাপ্য চমেরি গাভি

মেঘের পর্বত জুড়ে অযুত শুভ্র তাবু

এক সুরম্য রামধনুর নিচে তোমার বাসর

আজ তোমার মন বিষণ্ণ উদাসীন

আজ যক্ষের দিন

আজ নির্বাষ্প বারিপাত মালবিকার

জানি না কি খবর এনেছে মেঘবাবু তার

কত পর্বতমালা হয়েছে পার

পথে পড়েছে কত সরোবর

তবু যক্ষের রোষে বন্দি তার প্রিয়তর

শোন হে পরদেশি মেঘ

বঁধুরে পৌঁছে দিও আমার আবেগ

কাল যখন সে জাগবে একাকি রাত

মেঘের দেবতার সাথে

ঝরবে কারো নয়নের ধারাপাত।

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য ফোরাম