আবদুল গাফফার চৌধুরী মারা গেছেন

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ খ্যাত দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট ও গীতিকার আবদুল গাফফার চৌধুরী মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)

আজ বৃহস্পতিবার ১৯ মে সকালে লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশবরেণ্য এই লেখক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়েস হয়েছিল ৮৮ বছর। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধ্যক্যজনিত নানান রোগে ভোগ ছিলেন তিনি।

সাংবাদিক স্বদেশ রায় গণমাধ্যমকে আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি জানান। লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বলেন, মাসখানেক যাবৎ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। আজ সকাল সাতটার দিকে হাসপতালে মারা গেছেন তিনি।

ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত তাঁর বিখ্যাত গান ‘‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ ছাড়াও মুজিবনগর সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত মুক্তিযুদ্ধকালীন পত্রিকা সাপ্তাহিক জয় বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আবদুল গাফফার চৌধুরী।

আবদুল গাফফার চৌধুরী ১২ ডিসেম্বর ১৯৩৪ সালে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামের চৌধুরীবাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সাল থেকে লন্ডন প্রবাসে জীবন কাটান। লন্ডনের মিডলসেক্সের এজোয়ারের মেথুইন রোডের ৫৬ নম্বর বাড়িতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতেন।

১৯৪৯ সালে ছাত্রাবস্থায় মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সম্পাদিত বিখ্যাত ‘সওগাত’ পত্রিকায় তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৫২ সালে তারঁর প্রথম উপন্যাস ‘চন্দ্র দ্বীপের উপাখ্যান’ প্রকাশিত হয়। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে যোগদান করেন ১৯৫৬ সালে। তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত কলাম লিখতেন। তাঁর কলামগুলো পাঠকমহলে সাড়া ফেলে।

একুশের গানের এই স্রষ্টার রচিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখ যোগ্যগুলো হলো- উপন্যাস: চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৫২), নাম না জানা ভোর (১৯৬২), শেষ রজনীর চাঁদ (১৯৬৭), গল্পগ্রন্থ: ডানপিটে শওকত (১৯৫৩)। আবদুল গাফফার চৌধুরী সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৬৭ সালে বাংলা একাডমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক, ১৯৬৩ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার, ২০০৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের অসংখ্য রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক জ্ঞাপন করেছেন।

আরো পড়ুন: বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা