কাজী নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণার গেজেট প্রকাশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ভাবে গেজেট প্রকাশ করে ‘জাতীয় কবি’ স্বীকৃতি দাবিতে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করার খবর পাওয়া গিযেছে।

গত বুধবার ২২ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের দ্বৈত বেঞ্চে এ রিট দাখিল করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি জমা দেন আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দীন।

আইনজীবী আসাদ উদ্দিনের সাথে রিটের অন্যান্য বাদী আইনজীবীগণ হলেন- মিসবাহ উদ্দিন, জোবায়দুর রহমান, আল রেজা আমির, রেজাউল ইসলাম, কেএম মামুনুর রশিদ, আশরাফুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, রেজাউল করিম ও আলাউদ্দিন।

উক্ত রিট আবেদনে সংস্কৃতি সচিব, বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক ও নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক- এই ৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিলের পূর্বে রিটকারী ১০ আইনজীবী লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন বিবাদী ৩ জন বরাবরে। লিগ্যাল নোটিশে বিবাদীগণকে কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। ১০ দিনের মধ্যে বিবাদীগণ লিগ্যাল নোটিশের জবাব না দেয়ায় আইনজীবীগণ লিগ্যাল নোটিশের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে হাইকোর্টে রিট দাখিল করলেন।

এ প্রসঙ্গে রিটকারী ১০ আইনজীবীর মুখপাত্র মো. আসাদ উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিত হলেও এই পরিচিতির কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। জনগণ, কবির ভক্তকূল এবং রাষ্ট্রের কাছে এই স্বীকৃতি এতো বছরেও এখনও মৌখিক।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারতের কলকাতা থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত সরকারের অনুমতি বাংলাদেশে আনা হয়। কবির থাকার জন্য ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় একটি বাড়ি দেয়া হয় বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সম্মানসূচক ডক্টরেট অব লিটারেচার (ডি-লিট) উপাধী প্রদান করা হয়। ১৯৭৬ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। ১৯৭৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কাজী নজরুল ইসলামে ‘একুশে পদক’ পদক করা হয়। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশে আসার প্রায় ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁকে ‘জাতীয় কবি’ মর্যাদা দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।

জানা যায়, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কলকাতায় কবিকে দেয়া এক সংবর্ধনা দেয়া হয়। উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সর্বভারতীয় বাঙালি নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর থেকে মুখে মুখে কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছে ‘জাতীয় কবি’ হয়ে আছেন।

স্বাধীনতার পর থেকেই সাংস্কৃতিক মহল থেকে বিভিন্ন সময় কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণার দাবি তোলা হলেও সরকার কখোনোই এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

সূত্র: নয়াদিগন্ত

আরো পড়ুন- চাঁদের পাহাড় সিনেমা রিভিউ