সমৃদ্ধময় আগামি প্রজন্ম: মুস্তাক মুহাম্মদের মুক্তগদ্য

কর্মমুখী শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু তত্ত্বীয় শিক্ষা আর কিছু দায়সারা প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষক ও ছাত্রদের যে অর্জ্ন তাতে বাস্তবতা- গতিশীল পৃথিবীর সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে হতাশায় পরিণত হয়। টিনএজ পার হয়ে হবু যুবক অথবা যারা সতের আঠার ঊনিশ বছরের বা প্লাস বয়েসের নবীন যুবক, তাদের অমিত সম্ভাবনাময় শক্তি রয়েছে। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হব্। এই বিরাট শক্তিকে অবহেলা করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই তেজদীপ্ত অমিত শক্তি কাজে লাগাতে হবে। এই যুবকেরা আদর্শে আদর্শবান যুবক হতে হবে।

আমরা আমাদের এই নব যৌবনের শক্তিকে মহাশক্তি পরিণত করতে হবে।  যুবকের অমিত শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। এই সময় আমাদের নবীন যুবকদের জীবন গড়তে হবে। আমাদের নিজেকে গড়তে হবে, পরিবার গড়তে হবে, দেশ গড়তে হবে। যুবককের একটা বড় অংশ এ বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে। একটা বড় অংশ  ইদানিংকালে বিদেশ যায় কাজ বা চাকুরি করতে। তারা অধিকাংশ অদক্ষ, দেশে ফিরে তারা আবার বেকার হয়ে যায় অথবা জীবনের অধিকাংশ সময় দিশেশে কাটিয়ে দেয়। মাজে মাঝে আত্মীয় বাড়িতে বেড়ানোর মত দেশে আসে। যে যুবকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার অধিকাংশ তাদের শক্তির অপচয় করে। লক্ষ লক্ষ ছাত্র তৈরী হচ্ছে। তারা চাকুরীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বা তারা চাকুরীর জন্য।

কিন্তু এত চাকুরি কি দেশে আছে? কতজন আর প্রতিষ্ঠান আছে। হে আগামি দিনের দেশের কাণ্ডারী আসো, আমরা প্রতিষ্ঠান হোই্। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হয়ে অন্রেরও কাজ দিই। হ্যা এই বয়স্ দেরি কোনো। বিশ্ববিদ্যারয় শেষ করে করবে সে সময় নেই। এখনই শুরু করতে হবে। চাকুরির জন্য প্রস্তুত হোচ্চে কিন্ত কতজন চাকুরি পাবে বলো। একবার ভাবোতো কত পোস্ট খালি আছে। আর চাকুরিতে কি সৃজনশীলতা দেখানো যায়্? চাকুরিতে কি তোমার অমৃত মেধার অপচয় হবে না্ একটু ভাবোতো।  বিশ্ববিদ্যারয় ছেড়ে তুমি যখন চাকরি চাকরি করতে করতে হয়রান তখন হতাশার কালো কাপড় ছাড়া চারপাশে আর কিছু তুমি পাবে না। তাই আজই সময়  বিশ্ববিদ্যালয় তুমি যাও, কিন্তু সেখানে সব সময়তো থাকা লাগে না।

তোমাকে একটি প্রতিষ্ঠান হতে হবে। তা নাহলে বিশ্ববিদ্যালয় শেষে তাদের কোনো কাজে লাগানো যাবে না। না পারবে কিছু করতে না পারবে সাধের জীবনটা কর্মের মাধ্যমে উপভোগ করতে। এজন্য আমাদের যুবক শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যুবকরা এগিয়ে আসো। নানা কাজে দক্ষতা অর্জন করো। সারাদিনকে ভাগ করে নাও। সমবায়ের ভিত্তিতে  একটি কর্ম সেন্টার গড়ে তোলো। এই কর্মসেন্টারে তোমরা কাজ করো। যুবক, তোমাকে দিনটা ভাগ করতে হবে। একটা নিদিষ্ট সময় তোমাকে কায়িক শ্রমে ব্যয় করতে হবে কর্মসেন্টারে। নব যুবশক্তি তোমাকে কাজ করতে হবে। দক্ষ হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় হাতের কাজ করবে।

তোমরা মহাবিদ্যালয়ে যাও। সেখান থেকে জ্ঞান আরোহন করো। অর্জিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাস্তবে সেবা প্রদান করো। সেবার বিনিময় তুমি দক্ষতা-অভিজ্ঞতা-অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ হচ্ছো। চাকরির জন্য কেনো আমরা আমাদের বিপুল শক্তি অপচয় করবো? আমার কি সে ভুতের ঘোড়া ভর করেছে।  ঘোড়ার ভুতের পেছনে পেছনে তোমরা দিকহীন ছুটবে কেনো? দক্ষতা অর্জন করো। অনেক যুবক দেখেছি- তারা নিজেরা আজ স্বাবলম্বী্‍। আসো দক্ষতার শক্তি অর্জন করি। নির্দিষ্ট সময় শ্রম দিই কর্মসেন্টারে। এত লাভবান হবে। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করো। দক্ষ হোন। শক্তি-মেধা সেবার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কাজে লাগান। সিজনাল শ্রমিকও হতে বলছি অথবা সিজনাল ব্যবসায়ী হও। প্রতি সিজনে আপনি আপনার শ্রম মেধা দিয়ে নিজের কর্মসেন্টার বড় করো।

কাজ করো। সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছো দিন দিন। আবার কুপথে- বিপথে যাওয়ার সুযোগ নেই। একজন স্বাবলম্বী সপল যুবক তুমি। এটা শুনতে অনেক ভালো লাগে। দিন দিন তুমি দেশের উন্নয়নের একজন গুরুত্বপূর্ন অংশীদার। শুধুমাত্র যুবমেধা কাজে লাগানোর মাধ্যমে। এই মেধা দিয়ে নিজে তথা দেশ সমৃদ্ধ হবে। প্রথমে তোম কাজ– শ্রমমুখী ভালো মানুষ হওয়া। পরিকল্পিত জীবনযাপন করা। দক্ষ হতে হবে। ভাত ছড়ালে যেমন কাকের অভাব হয় না- তেমনি দক্ষ মানুষের কাজের অভাব হয় না। বিজ্ঞানের যুগে যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। যন্ত্রপাতি সেটিং, বিকল হচ্ছে তখন একজন দক্ষ টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন। যুব কর্মসেন্টারে এসে বা মোবাইলের মাধ্যমে বা অ্যাপের  মাধ্যমে তোমর নক করা হলে তুমি দ্রুত সময়ে সেবাটি করে দিয়ে মুজুরি পাবে। তাতে তোমার পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হবে না।

সিজনাল ব্যবসা বিশেষ করে সবজি, ফল, অথবা শ্রমিক হিসেবে ফসল তোলার সময় কাজ করতে পারো। জীবনযাপন তোমার জন্য সহজ ও সাফল্যমণ্ডিত হবে। হতাশার দৈত্য তোমর দেখলে ভয়ে পালিয়ে যাবে। একজন সফল মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করতে পারবে। পরিবার নিয়ে সুখী জীবনযাপন করা আমাদের প্রত্যেকের কাম্য। আসো আমাদের যুবশক্তি স্বব্যবহার করে সাফল্যর দ্রুতবেগী ঘোড়াকে লাগাম দিই। নিজেরা সমৃদ্ধ হোই। গড়ে তুলি নিজেদের কর্মময় চাহিত বাংলাদেশ। আমরা ঘর ছাড়ি, ঘরকে সুন্দর করে বসবাস উপযোগি করার জন্য। আমরা জীবনযাপন করি সৎ দক্ষ কর্মি হিসেবে যার সম্মান- অর্থ বশে আসবে। কাজ জানা থাকলে কাজ তথা চাকরির অভাব হবে না। দক্ষতা সম্পূর্ণ সৃজনশীল মানুষের প্রায় বিরান।

আমাদের সৃজনমীল চিন্তাযুক্ত মানুষ হতে হব্। আমাদের শক্তিকে অপচয় না করে যথাপোযুক্ত ব্যবহার করতে হবে। কোনো আলা্‌উদ্দিনের চেরাগের দৈত্য সমৃদ্ধ করে দিতে আসবে না। হে যুবক, আগামি দিনের কাণ্ডারি, তোমার আপন শক্তি জাগ্রত করো। দেশের উন্নয়নে অংশীদার হোই। আমরা প্রত্যেকেই একটি প্রতিষ্ঠান হোই। আমাদের প্রতিষ্ঠানে আমরা কর্তা আমরা শ্রমিক। তোমার বয়স বাঁধা নয়। তুমি পারবে সততা দক্ষতা দিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে। নিজের কাজে সৃজনশীলতা আসে, ব্রেন চিন্তাশীল তীক্ষ হবে। তমি সম্পদে পরিণত হবে। অদক্ষ চলৎ শক্তিহীনরা হয় বোঝা্, তারা কোনে কাজে আসে না।

বরং তাদের মধ্যে কোনো জীবন থাকে না। জীবন একমাত্র কর্মের ভেতরে, গতিশীলতায়। গতিহীন হয লাশ। যার কাছে কারো কিছু পাওয়া বা চাওয়া থাকে না। তোমার কাছে পরিবার তথা দেশের অনেক চাওয়া আছে। তুমি সুনাগরিক হয়ে দেশের সে চাওয়া পূরণ করবে; সমৃদ্ধ হয়ে দেশকে সেবা দেবে। আগামি প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ সুন্দর দেশ উপহার দিবে। তাতে তোমার মানব জীবন সার্থক হবে। আসো যুবশক্তি তোমার নিয়ে আজই আমরা এগিয়ে যাবো, এগিয়ে যাবো এখনই।

বসে থাকলে চলবে না। এখনই সময় আমাদের নিজেদের দক্ষ করার; এখনই সময় কিছু অর্জন করে দেশকে কিছু দেওয়ার। আমরা একবিংশ শতাব্দীর অপাজেয় শক্তি, আমরা আমাদের নিজেদের জীবনকে তথা দেশকে গড়ে তুলব। আমাদের অমৃত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা পৃথিবীতে অক্ষয় কীর্তি স্থাপন করবো। আসো, আমরা কর্মময় সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

ফেসবুকে ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা

আরো পড়ুন: সকাল রয়ের কবিতা