রহমান হেনরীর কবিতা

পত্র  

পত্র লেখোনি, পত্র এসেছে একা-

ডাকঘর কি ইন্ধন দিতে পারে?

ঘরহীন সে-ও, রয়েছে অন্ধকারে

 

দীর্ঘ রাতের মৌন আঁধার ফুড়ে

পত্র এসেছে— প্রেম মেনেছে যারে,

তার দুয়ারেই স্বয়ং দিয়েছে দেখা

 

প্রবাহহীন বাতাসে উড়ে উড়ে

রপ্ত করেছে তোমার কন্ঠ, ঘ্রাণ-

কে বলে পত্র বধির-নিষ্প্রাণ?

 

আঁধারের ব্যুহ ছিন্ন, ছত্রখান-

পত্র লেখোনি, পত্র এসেছে তবু,

বলছে, ‘আমাকে গ্রহণ করো, প্রভু’

 

 

প্রচ্ছন্ন

ওঝাকে যদি সর্পবিনাশে ডাকো—

সফল হবে? সাফল্য সোজা এত?

ওঝায়-সাপে সৃজিত পেশা-সাঁকো

 

নির্মূলে তার স্বস্তি হবে না মনে;

সাপ থাকবেই অথবা সর্পছানা

অথবা ডিম, বসতে কিংবা বনে—

 

সাপের সঙ্গে ওঝার আত্মীয়তা

যদি-বা আজ স্মরণে রাখা যেতো

মন্দ হতো না; এই কথা তো জানা

 

ওঝাকে যদি সর্পবিনাশে ডাকো—

তবে কি ভাববো এ কথা মিথ্যা না:

ছলচাতুরি গুপ্ত তোমারও মনে!

 

 

সতর্কতা

মহাজগতের খুটিনাটি তো পরের কথা

কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কেও অভিজ্ঞতানিষ্ঠ

কোনও কিছুই জানা নেই; কিছু কথা

নিজেদের গ্রহ সম্পর্কে জোর দিয়ে বলতে পারি

 

পৃথিবীতে,

ভয়ানক ও সর্বগ্রাসী তিনটি অরণ্যের নাম:

জল

আয়না

প্রিজম

 

এদের মমতার মধ্যে

চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাবার ঝুঁকি রয়েছে;

 

বাঁচতে হলে,

অবিলম্বে, জ্যোতির্বলয় রচনা করতে হবে

নিজ নিজ দেহের চারপাশে;

 

শুরু হচ্ছে সময়—

তিন

দুই

এক

শূন্য…

 

বন্ধুরা, তৈরি আছো তো?

 

আরও পড়ুন- সোনালি কাবিন- আল মাহমুদ