মাসুম মুনাওয়ার: গুচ্ছ কবিতা

এমনি নিয়ম

প্রথমকার মতই নতুন ও সতেজ আজকের দিনটাও। তফাত কেবল কালের। এদিকে জমেছে সবুজ ও স্নিগ্ধ বেদনার কবুতর।

 

কচিকালে যে মেয়েটার প্রেমে পড়েছিলাম- যার চোখসমূহ আমাকে আবৃত করেছিলো- যার ভেজা হাসি থামিয়ে দিয়েছিলো- যার মিহিন কণ্ঠ জমিয়ে দিয়েছিলো – সেই- সেই মেয়েটা আজো তেমনি আছে। চোখে শীতল নিবেদন।

 

ডুবে ডুবে যেতে যেতে মনে পড়ে তারে-  মনে ধরে- এক চিলমি সরে যায় আমাদের বয়স কেবল। থামে না লড়াই- ভেতরে পঁচে- ভেতরে ছড়ায়- বাড়ে মহাঅসুখ। স্বাদ নাই- নিদহীন নয়টা বছর। তবুও কেটে যায়- কেটে যেতে হয়- এমনি নিয়ম।

 

বেদনার সংবাদ

বেদনাকে তাড়াতে পারি না, বেদনা আমাকে তাড়িয়ে দেয়

বেদনাকে উড়াতে পারি না, বেদনা আমাকে উড়িয়ে দেয়-

 

নারীর দেহ থেকে

পুরুষের মন থেকে

কবিতার মগজ থেকে

জীবনের মোহ থেকে

 

তারপর-

ঘুটঘুটে অন্ধকারে

সমূহসুখ হারিয়ে

একা বান্দর।

 

 

দূরে কোথাও শুকতারা

মেঘগুলো ভাসছে যেখানটায়

নিজেরে দেখতেছি

হিমশীতল একটা সাপ।

 

তবুও-

বেদনাকে উড়াতে পারি না, বেদনা আমাকে উড়িয়ে দেয়

বেদনাকে তাড়াতে পারি না, বেদনা আমাকে তাড়িয়ে দেয়।

 

মৃত নারীদের দেহ থেকে

মৃত পাঠার লোম থেকে

মৃত শকুনের হার থেকে

মৃত একখন্ড পাথর থেকে

 

‘আসমান ভাইসা উঠছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার। লক্ষণী তারা ভাইসা উঠছে। নিজেরে দেখতেছি। মেঘগুলো ঘুরি ঘুরি উড়তেছে। নিজেরে দেখতেছি। হিমশীতল একটা সাপ।’

 

আরও পড়ুন- সাইফ সিরাজের কবিতা

 

 হৃদয়ের সহোদর

উৎসর্গ: মুর্শিদুল মোমেনীন

কাঁচা একটা ছেলে হঠাৎ একদিন যুবক হয়ে উঠলো

উজ্জ্বল মণি, কালো ভ্রু এবং দীর্ঘ একটা দেহ

কালচে দেহের উপরে কেউ যেন মধু ঢেলে রেখেছে

উপমাটা ঠিক মাননসই হচ্ছে না হয়ত

বলা যেতে পারে এস এম সুলতানের ক্যানভাস

‘প্রথম বৃক্ষরোপন’ চিত্রকর্মের নায়ক-

নিদেন কৃষক, মাঝি বা জেলের সাথে রয়েছে তার দীর্ঘ ইতিহাস।

 

বাংলার পুরুষেরা যেভাবে মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়

সে তাদেরই দলের লোক

মাছ ধরতে ধরতে যে মাঝি মনের সুখে গায় গান সেও ঠিক তারই মতন

অফুরন্ত সুখ যার হৃদয়ে বিলের মৃদু ঢেউয়ের মত হেসে খেলে বেড়ায়

দুঃখ তার মনে কখনোই ঠাঁই করতে পারেনি

যেন হাওরের মধ্যিখানে ভেসে বেড়ানো একটা উজ্জ্বল রাজহাঁস

সে পুরুষ, সে নিতান্ত বাঙালি পুরুষ-

কোনো একদিন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সেই পুরুষের সাথে আমার হয়েছিলো দেখা।

সেদিন চিনেছিলাম সুলতানের নায়ককে

একটুও ভুল হয়নি আমার-

সেই পুরুষের আজ হয়েছে বিয়া

মুখে রুমাল গুজে ঠিক আমার দাদার মতই সে গিয়ে দাঁড়িয়েছে কনের বাড়ি

 

শুভ্র বকেরা যে গ্রামে ডিম দেয়- বাচ্চা ফোটায়- কনে থাকে সেই গ্রামে

সেইখানে পেয়েছে সে তার হৃদয়ের মানুষ- ধানের ফুল

তাইতো সে প্রকৃত কৃষক- কৃষাণীর হৃদয় পেতে যে করে প্রেমের চাষাবাদ।

গৃহিণীর সাথে হয়েছে তার দেখা-

হৃদয়ের ঘরে বসেছে এক তরুণী বাবুই-

 

এবার উজ্জ্বল হবে গ্রাম

আমরা পাবো শান্তির সুবাতাস-

খলশে মাছের ঝোলের ঘ্রাণ ভেসে আসবে দক্ষিণের ঘর থেকে

তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে হৃদয়

সমস্ত আলো এসে পড়বে তাহাদের ঘরে

আমরা বলবো- এই তো সে- আমাদের হৃদয়ের সহোদর।