একগুচ্ছ কবিতা: অনিমেষ প্রাচ্য

 অ্যালিজারিন ক্রিমসন

লাবণ্যের পরে আর শিশির দ্যোতনা হলো না, নিত্য এক কাঠবেড়াল খোঁজে আগুনের ক্রন্দন যতো, রচে আজ হারাকিরি তোমার। এই অলৌকিক অহিফেনে মাখা তুমি, তোমার গহন অন্ধকারে সবই হয় বিষণ্ন কাকাতুয়া মরণ।

 

আমার জ্বলন্ত কাণ্ড দিয়ে দধীচিরে করি আবার দৈবজীব। কী ভেবে ফেলো রাশি রাশি অশ্রুজল? একি! মরণ! কতো ঘ্রাণ মর্মের বাণী! নর্তকীর অঞ্জনে জলের সাথে ভেসে আসে মৃদু দ্রাক্ষা আলো। ফিরে এসে দেখো।

আমার মতো অরণ্যচর ফড়িঙের গন্ধে ওড়ে অন্ধকারদৈব যত, তুমি অন্ধ হয়ে দিয়েছো এই বিস্মৃত রণভার। রেইনবো লরিকেটসের গায়ে অজস্র ম্যালিগন্যান্ট সাইন;— ভৌতিক রসাতলে ডুবে পৃথিবীর অস্ত যাওয়া দেখি। কতো যে অন্ত হয় এই সমুদ্রের! কতো যে বায়ু আজ ক্ষয় হয়! কতো যে তোমার রণক্লান্ত মুখ, বহ্নি লজ্জা… কতোদিন আর আলো, সমুদ্র মন্থনের বিষ তুলে নিয়ে চোখে, অমর হওয়ার দিকে এগোবে ক্রমশঃ?

 

আমার সমস্ত অঙ্গ জুড়ে অ্যালিজারিন ক্রিমসন, যেন মৃত্যুময় যত আলোর ফলক। তুমি মর্গের মতো সুন্দর হলে, এই রঙ আজ ভয়ানক গান হয়ে ওঠে।

 

আরও পড়ুন- অরণ্য আপনের কবিতা

 

 রূপকথা ও স্বর্ণজাল

হুতোমের অন্ধকারে আমার উট-অধরার দল মৃতের সৎকারে অর্ধনগ্ন হয়ে শুয়ে থাকে আর শিউলির উৎকট প্রবন্ধ নিয়ে প্রতিদিন প্রলাপ রচনা করে। তাই শ্মশানের ঐ-অনন্ত ঘাসের দিকে আজ আবার রওনা হয়েছি ডোডো অভিমুখে।

 

সর্পকাকাতুয়ার দেশে — সমস্ত জীবনের প্রেম, সমীক্ষা নিয়ে দৈবরূপে অধঃপতনে নেমেছি আজ।  ম্যাকাও পাখির হাত ধরে শূন্যতার দিকে উড়ে চলছি আমরা। এভাবে অনন্তের সন্ধানে উড়ে চলবার বাক্য দেইনি যদিও! একটি ঝরা পাতার কাছে কেবল রূপকথার শব্দ শোনাবার কথা। কী যে লাবণ্যের হলো এই বাষ্পভর্তি মেঘের মাঝে ছুটে চলতে!

 

চলতে চলতে ব্লাস্ট ফার্নেসের কাছে ধরা পড়েছে আমার আকাঙ্ক্ষার নিয়তি।

অনিমেষ

 

 

 দারু-মূর্চ্ছনা

অবশ্য দুষ্প্রাপ্য কাঁদার মেঘে পড়ে আছে আমার স্যাটায়ারধর্মী শব দিনের আলো, কাব্যের অলৌকিকতা যত — যেখানে হু-হু নীরবতা, আর পঙ্কিল হলো শ্বাস, কোনো মৃগয়ার অরণ্যে পেতে চাই তবু নীল কুকুরের চোখের মতো অন্য কোনো হোরেসের পথ; একাকী কাঠবিড়ালির ব্যাখ্যাতীত চাঁদ। শ্যাম আর যৌনকুমারী এই পথেই মত্ত; সবশেষে আমিও তোমার দারু-অস্তিত্বে, ভ্রমণক্লান্ত মেঘে মিশে আছি যে।— এসো হে মধুবিলীয়মান, পুষ্প ঘ্রাণ বিলাও আরও।

 

জয়েন করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য ফোরাম