বহ্নি কুসুম এর কবিতা

তুমি ডাক দিও

 

ধুম কোনো মধ্যরাতে ডাকতে পারো

আমার কোনো ওজর নেই যেতে।

তুমি ডাকবে, তোমায় সাড়া দেবো

আমি আটপৌরে অভ্যর্থনায়।

 

যারা যেখানে, যেভাবে আছে থাক

এই বাড়ি বেঘোরে ঘুমিয়ে থাক।

পোষা প্রিয় কুকুর সেও ঘুমিয়ে থাক।

সমুখে বয়ে চলা সারাদিনের

শ্রান্ত পথ, একটু ঘুমাচ্ছে ঘুমাক।

রোজকার রাত জেগে বসে থাকা নিশাচর

তাকেও দরকার নেই জাগানো

যারা যেখানে, যেভাবে আছে থাক।

 

কাজের স্তুপ সাজানো এই ক্লান্ত টেবিলটি

ক্রমিক ধরে সম্পন্ন করা কাজের তালিকা

অগোচরে থাক।কাউকে আজ

তোলার দরকার নেই।

 

বিক্ষুব্ধ কলম থেকে একটু বেশি

প্রয়োজন সাবধানতা অবলম্বন

সে বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে।

অথবা সেই দাঁড়িয়ে  যেতে পারে

উল্টো সওয়াল-জবাব নিতে।

সে-তো আমাকে চেনে।

আমার সাথে একাকিত্ব হতে হতে

বড্ড ভালবাসা জন্মে গেছে তার।

এজন্যই তাকে ভয় আমার

তবুও যাবো, তবুও যেতে চাই।

 

তবে শোনো, যাবো যখন

আমাকে যেতে হবে যখন

দোহাই-করো না  আমার জন্য

জান্নাতুল ফেরদৌসের ব্যবস্থা

মিনমিনে পুতুপুতু সুখ ভোগের কোনো

ইচ্ছে নেই যে আমার।

বরং থেকে থাকে যদি হাবিয়া থেকে

আরো উচ্চতর জ্বলন্ত লেলিহান

আমাকে সেই দরজাটাই দেখিয়ে দিও

আমি তার প্রতিটি কণা ছুঁয়ে

দেখতে চাই কে বা পুড়েছে বেশি

কার আগুন তিব্র প্রখর খরস্রোতা।

 

আচ্ছা, ঘুমে মরা এমন মধ্যরাতে

ডাকতে তুমি না-ই চাইলে

প্রখর কোনো গ্রীষ্মে ডেকো

তপ্ত রোদে পুড়ে যখন মানুষের

ওষ্ঠাগত হবার মতো অবস্থা

তখন তুমি চলন্ত পাদু’টো

থামিয়ে দিও মধ্য পথে।

বলো আর কতো পথে পথে

ঘুরবো ঘরহীন। আমার পথ

দৈর্ঘ্যে বাড়ছে দিনদিন।

 

হাইকোর্টের মোড়ে যে কিশোরী হাতের

শৈল্পিক মালাটি ক্রেতার হাতে

তুলে দিয়ে পেটের স্বপ্ন কেনে

সে-ও পথ আগলে  পারে দাঁড়াতে

কেননা বহুকাল একই পথে আছি দুজনে।

হয়তো তার আমার প্রতি কিছুটা মোহ

পড়ে গেছে। তবু যাবো আমি।

 

স্বেচ্ছায় সানন্দে যেতে চাই।

 

কেননা এই দীর্ঘশ্বাস এ-ই পোড়া

আমার ঝলসানো জীবন

আর কতকাল, ক..ত..কা..ল বয়ে বেড়াবো?

 

আরো পড়ুন- পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা