নিরোজা কামালের কবিতা

মেয়েকে বলি

মেয়েকে বলি, ফেস বুকে কত তোমার বন্ধু

আছে হয়তো এক বা একাধিক প্রেমিক

আমার তরুণ বয়স সর্বক্ষণ ছিল মায়ের পাহারায়

কোনো ছেলেকে চিঠি লিখছি এই ভাবনায় আচমকা

দাঁড়াতো এসে আমার চেয়ারের পেছনে

হাত মুচড়ে চিঠি কেড়ে নিয়ে বলতো,

প্রতি সপ্তায় এক দিস্তা করে চিঠি লিখিস, কোনো ছেলে নাতো?

আমার কলম বন্ধু যে মেয়ে প্রমাণ করতে হতো

কেঁদে কেটে ।

 

আমার স্বপ্নের শাড়ি গয়না, আমার পড়াশোনার

পিছনে দৌড়ে , আমাকে পাহারা দিতে দিতে

আমার মায়ের ক্ষয়ে গেছে তারুণ্য, দেখেছি মুখ ভর্তি /

তার অকাল প্রৌঢ়তা

 

কিন্তু আমার মেয়ে, আমি  বলবনা কিছু

জানতে চাইবনা, ফেসবুকে তোমার গোপন পাস ওয়ার্ড

বলবো না, জামার নীচে সেমিজ পরেছ তো মা?

 

নিরোজা কামাল

আমিও তো চাইনি জন্ম, চেয়েছি?

চাইনি ঘটা করে নাম হোক, নিরোজা নামের অর্থ

তুমিই আমায় জানিয়েছো, বাবা।

সেই তুমি চাওনি, নিরোজার চোখের ঘন কাজল

লাল জুতো,  মাথার প্রজাপতি ব্যান্ড, চাওনি জৈষ্ঠ্যমাস

বিশাল মাঠ তুমি আমার জন্য চাওনি, বাবা

 

চাওনি স্কুল ব্যাগ, জলের বোতল, ছোট্ট ঝুঁটি

চাওনি স্বাবলম্বী হই,  চিতকার করি, চাওনি কাউকে

কষে দুটো চড় দেয়ার মতো শক্ত হোক আমার হাত

 

যখন বরষা, যখন বৃষ্টি,  প্রার্থনার ভংগিতে  ফুল ফোটে,

পাখি গান গায়, আমি ভিজি,  ভিজে  ভিজে বেঁচে উঠি

 

আমি নিরোজা,  নীরে জন্ম, আমি কি জল ছাড়া বাঁচি

বৃষ্টিতে ভিজব, গাইব ” নয়নে এসেছে, হৃদয়ে এসেছে

ধেয়ে, আবার আষাঢ় এসেছে আকাশ ছেয়ে”

অথচ সেই রবীন্দ্রসংগীত তুমি আমাকে গাইতে দাওনি, বাবা।

আমি নিরোজা কামাল, আমি কি চেয়েছি জন্ম।

 

আরো পড়ুন- এলা বসুর কবিতা

 

আসে না কবিতা

প্রস্তুত ছিলনা কবিতা, তাকে  টেনে আনি

গা মুছে পাউডার মাখাই, আদর করি

কবিতার অতিচেতনা স্পর্শ করব ব’লে

চলে যাই মধুমতী পেরিয়ে ওপারে ফুপু বাড়ি

শীতকালে স্নান করি ঠান্ডা জলে

কতদিন খোলা চুল, লাল চোখ

তবু আসেনা কবিতা

কবিতা চলে গেছে আমাকে নিম্নবিত্ত গালি দিয়ে

যে শহর কবিতা শেখালো সে শহর ছেড়ে পালাব আমি।

 

 

বিবাহ

কারণ আমি চাই বিয়ে করতে । চাই দ্রুত  দীর্ঘ

হোক চুল। বেণি দীর্ঘ হোক ।  বিয়ের পর পায়ের

উপর পা দিয়ে ,  রকিং চেয়ারে বসে বই পড়ব সারাদিন।

বর অফিস থেকে এসে যদি বলে, রান্না করোনি?

পা নাচিয়ে বলব, বই শেষ না করে তো স্নানেই যেতে

পারিনি এখনও।

শ্বশুর শাশুড়ি কি বলবে?

মা অবশ্য বাবাকে বলবে, দেখবা, বিয়ের পরদিনই

বরের বাড়ির লোক ফিরিয়ে দেবে তোমার মেয়েকে।

মা জানেনা, রাতের বেলা বর আমার উড়া ধুড়া

গভীর চুলে আংগুল ডুবাতে কত ভালোবাসে।

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা