নিঝুম খানের তিনটি কবিতা

তবু ফেরে কবিতা

কেটে যায় অসংখ্য রাত

দ্বিধাগ্রস্ত রাত্রির বিনিদ্র বিছানায়

প্রতিবার সেই পরিচিত প্রত্যাবর্তন

বিগত বিসর্জনস্মৃতি, আত্মার বিকল্প বিনিময়

যেন এক অশুভ অসুখ

যেন অস্পষ্ট ক্লিওপেট্রা

পালিয়ে বেড়ায় গোপন মগজে

জন্মদাগ থেকে কতশত বিপন্ন বিষাদ

ক্ষুধা আর খোদার নিকটে ছুটে যায় তাড়নাহীন।

তবু ফেরে কবিতা

যেমন ভিঞ্চির দুঃস্বপ্নে প্রতিবার

ছুরি হাতে ফিরে আসে

এক অতৃপ্ত মোনালিসা।

 

চুম্বনক্ষত

গমনাগমনের রীতিনীতি ফুরোয় যখন

তখনও কি হাঁটতে হয় নির্বিকার?

প্রতিহিংসার অনন্ত অনলে

যে অলৌকিক বাহুদ্বয় পেরিয়েছে উষ্ণ প্রস্রবণ

ততোধিক মুগ্ধতা ততোধিক আহত আঁচল

রেখে গেছ বিকল্প বাসরে!

জানা নেই।

 

শুধু এক ধ্রুপদী পুরুষ, তোমার ঘ্রাণের আস্তিনে

রেখে যায় বিশ্বস্ত ফাঁদ

আঙুলের প্রতিশ্রুত আকিদা।

 

আমি ফেরত চাইতে এসেছি সংখ্যাতীত চুম্বনক্ষত

ফেরত চাইতে এসেছি হিতাহিতজ্ঞানের দীনতা

বিগত বিষাদ আর নৈসর্গিক স্পর্শসমূহ

এবং যা ছিল আড়াল

পৃথক পৃথিবীর অন্তর্জালে… সবকিছু

আমাকে ফিরিয়ে দাও—

গমনাগমনের রীতিনীতি ফুরোয় যখন।

 

খাদক

অরণ্যের শ্বাপদ বলয় থেকে উঠে আসা

এক বুভুক্ষ প্রজাতির প্রাণী

সুষম খাদ্য থেকে শুরু করে

জননীর মাংশল বুক থেকে শুরু করে

শ্রমিকের রক্তমিশ্রিত ঘাম

পিঁপড়ের মজুদ আহার

পরিপাক করে নেয় অনায়াসে…

 

হয়তো আমরাও জানি

মানুষ

সর্বভুক প্রাণী।

 

আরও পড়ুন- মুসা আল হাফিজের কবিতা