দুটি কবিতা: নিমাই জানা

বাবা ও তৃতীয় লিঙ্গের স্বরবর্ণ গুলো

 

বাবার বুকের স্টারনামে এক দিস্তা সাদা কাগজ লুকিয়ে রেখেছি সেই পিথাগোরাসের সময় থেকে

সকলকে ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে উঠে ফরফর করে ছিঁড়ে ফেলি সাদা রঙের অধাতব অসুখের পৃষ্ঠাগুলো , প্রতিটি পৃষ্ঠায় চৈতন্য দেব মহাজনপদ ছুঁয়ে যাচ্ছে

নীল কবজের মতো  চাঁদ মালা ফেলে দীর্ঘশ্বাস বুকের কাছে মাথা রেখে কিছু মহাজাগতিক শব্দ শোনার চেষ্টা করি আমরা তিন জন , তখন মহাঋষি নামিত সেবাসদনের দূরত্ব বেড়ে যায় কাঁকড়া বিছের মতো সায়ানাইড , চাঁদ আর ইম্পোটেন্সি…….

কিভাবে একটি ধ্রুপদ সংগীতের বেহালা বাদক রাতের চতুর্ভুজ জলযান খোলকের ভেতর থেকে আনথ্রাসাইট খনিজ চোখ খুবলে খেয়ে নেয় তেজস্ক্রিয় বজ্রপাত মিশিয়ে

পৃষ্ঠার ভিতরে থাকা নপুংসক স্বরবর্ণ ছিঁড়ে ফেলতেই বাবার বুকে বড় কষ্ট হয় , ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশন মানেই আমার বাবার গায়ে অসংখ্য সমান্তরাল পালক গজিয়ে উঠেছে বারবার

রাতের সব নক্ষত্রেরাই পরকীয়া জানে বলেই তাদের গর্ভপাত দেখা যায় না , শুধু দুধেল রাস্তা ধরে এক একটি ক্ষুদ্রাকার ঈশ্বর নেমে আসে বিমোহিত ঝাউ গাছের মাথার উপর দিয়ে

আসলে পরজন্ম বাবা মাথার কাছে ত্রিশূলটিকে গুছিয়ে রাখে নিজের ব্রহ্মকোষ চাষাবাদের জন্য

বাবার বুকের পৃষ্ঠাগুলোয় অসংখ্য যুক্তাক্ষর রাখা আছে ভূগোল বিষয়ক মন্থকূপের জন্য , তিন ফোঁটা লাইকোপোডিয়ামে আমি দুর্জয় পুরুষ হয়ে উঠি

আমি সর্বদাই অনুকূল স্রোতের নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি জানালাটি কঠিন পালক দিয়ে তৈরি ছিল বলেই , ভূমধ্যের চারদিক ভরে গেছে রক্তে।

 

আরও পড়ুন- সাঈদ কামালের গল্প- অপরুপ দোজখ

 

 জমজ ছায়া ও মৃতপ্রায় চল্লিশ সেকেন্ড

 

সন্ন্যাসীর মতোই মৃত জলাশয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার পর ক্রিস্টাল রঙের যমজ চাঁদের শরীর গুলো আমাদের পুংকেশর কামড়ে ধরে

শরীর জুড়ে অধাতব এক অঙ্গুরীমাল আমাদের নাভি খুঁড়ে যাওয়ার পর অনুর্বর মন্থকূপে বসে বসে কালো রঙের সাম্রাজ্যহীন বেদানা ফলের চাষাবাদ করছে কোন এক নাবিক সন্তান

আমরা সবাই ধূসর দেয়ালের নিচে পদ্মাসনে বসে আছি আমার প্রিয় মৃত্যুর ৪০ সেকেন্ড আগের মুহূর্তের জন্য

অবচেতনে জেগে থাকা কোন এক পরকীয়া নারীদের গর্ভজাত দলমন্ডলকে কিছু প্রতিবিম্বহীন সমরেখার অসুখে ঝুলিয়ে রাখি চতুর্ভুজ হৃৎপিণ্ডের মতো

এখানে সকলেই মৃত্যুর আগেই চতুর্ভুজের ওপর অসংখ্য বেলফুল রেখে যায় , আমি মৃত্যুর পর প্রতিদিন গর্ভবতী ঠোঁট থেকে কালো রঙের সালফিউরিক বের করি এই অযৌন পর্বত গুহার নিচে উপুড় হয়ে বসে

সরীসৃপেরা এক কাল্পনিক বাৎসায়ন রচনা করে আমার প্রিয় ইছামতি নারীর জন্য

গোপন হত্যাকারী হয়ে রাতের সন্ন্যাস রঙের পোশাক পরে নেয় আমাদের মতো দীর্ঘ ঈশ্বরের ডান বাহু

আমি শুধু অনুর্বর মাঠের ভেতর সশস্ত্র মহাজনপদ খুঁজে বেড়াই ঈশ্বরের মতো , প্রতিটি বটগাছের তলায় অসংখ্য ক্রোমোজোম সিঁড়ি নিয়ে ৩৪ টি নরক ক্ষেত্র ঘুরে আসি

আজ ভিক্ষুক মানুষের লাকেসিস খাবার দিন।

 

নিমাই জানা: কবি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ। 

 

জয়েন করুন: দিব্যপাঠ সাহিত্য ফোরাম

আরও পড়ুন: অরণ্য আপনের কবিতা