দীর্ঘশ্বাসের লাঙলের ঘা: রিক্তা রিচির কবিতা

দরোজা খুলে দিয়েছি, জানলার দুটো বুক খুলে দিলাম।

তোর জন্য ছাদ, বারান্দার সব বোতাম খুলে দিলাম।

এইবার যেদিকে যেতে ইচ্ছে করে, যে প্রান্তে যেতে ইচ্ছে করে চলে যা।

এখন তুই পাঁচলক্ষ হাজার কোটি রঙধনুর সাথে ভেসে বেড়াতে পারিস।

চাইলে রোদ, জোস্নার শরীর খুলে খেতে পারিস।

পেছন থেকে বাধা দিবে না কোনো নরম নদীর হাত।

বুকের পশমে জাপটে ধরে জানতে চাইবে না ‘ভালবাসিস আমায়’?

গ্রীলের লতানো বাগানবিলাস- যা তোকে ছায়া দিতো, বিকেলে চোখের চড়ুইভাতি এনে

দিতো সেগুলোও কেটে দিলাম।

হাস্নাহেনা, সাদা কাঠগোলাপেরা ঘ্রাণ বিলিয়ে দিয়ে তোকে মায়ায় জড়াবেনা।

যে হৃদয়ের গেরস্থালীর বাসিন্দা ছিলি সেখানে তোর প্রস্থান নিয়ে আফসোস থাকবে না।

জল ঝরাবেনা চোখ। এখানে কঠিন পাথরের ঘা!

ঘুণে ধরা আলমারি থেকে খালি ঘর ভীষণ ভালো।

দীর্ঘশ্বাসের লাঙলের ঘা থেকে মুক্তি পাওয়াই বরং ভালো।

কিন্তু মিহির, চলে যেতে যেতে ভুলতে পারবিতো নরম নদীর দুঃখ?

 

আরও পড়ুন- অরণ্য আপনের কবিতা

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা