জারিফ আলমের একগুচ্ছ কবিতা

আড়ালের রূপকথা

 

ফাগুন কবলিত সন্ধ্যা নেমে এলে একটু নিঃসঙ্গতা

দুলিয়ে যায় ভেতরে ভীষণ। বিষাদের তর্জমা নিয়ে

অতসীর বনে কিছু বেপরোয়া স্মৃতির আনাগোনা।

সেই রঙ মেখে লেখা হলো অশ্রুত প্রেমের পদাবলি;

আটপৌরে অসুখের নিরাময়হীন ব্যাকুলতায়

এই খেদ এই ক্ষোভ প্লাবিত করে রোজ

গোটা স্বপ্নের মহাদেশ।

 

জড়িয়ে নেয়া দেহের উপকূলে বাতাসের কামিজে

দলছুট ভাবনার উৎপাতহীন ওড়াউড়ি এখন।

ব্যক্তিগত অক্ষমতার দায় চাপিয়ে নিরুপায় মানুষেরা

ভালোবাসার দেবার বদলে পেতে আগ্রহী কেবল।

মনে রাখা না রাখার ব্যাপারে প্রতিকারহীন মুহূর্ত

দুর্ভাবনার মোড়ে আটকে দেয় সময়কে এখন।

তবু জমানো কিছু খুচরো নোটের মতো

কিছু প্রেম-স্নেহ আর মন কেমন করা অসুখে;

বেঁচে আছি আজো কতো স্বাভাবিক!

 

 

গোপন অসুখ

 

একটি দুপুরকে ঘিরে হৃদয়ের নৈবেদ্যে এখন

অলীক নাট্যের ভেতরে দীর্ঘশ্বাসের ধুলো জমেছে।

বর্ষার টলটলে অশ্রুতে ভিজে নির্ভার হতে গিয়ে

তোমাকে লুকিয়ে দেখার গভীর অসুখে ভুগেছিলাম

চোখের ভেতর ছিলো তাই স্বপ্নের নাচানাচি।

 

ফড়িং ছানার চপলতা; অভিজ্ঞানের নিবেদনে

 

লাজনম্র ঠোঁট শুষে খায়;

গোপন অসুখের শুশ্রুষা।

রঙিন রোদ চশমায় মেতে ওঠে মিশ্র ব্যবস্থাপনা

আস্থার অস্থিতে অস্থির অসুখের ওঠা নামা এখন।

এমন ভরা আষাঢ়ে মেধার বর্ষাতি ভিজে যায়

কালিদাসের বিষাদ নেমে আসে তাই শরণার্থী

মেঘেদের লোকালয়ে।

 

বাকিটা ভার্চুয়াল

 

মিলেমিশে থাকার মতো দূরত্ব আছে আমাদের

খেদ মেশানো সুরের এজলাসে তোমারই আনাগোনা

বিপরীত স্রোতে শুকিয়ে যায় এখন বকুলের গালিচা।

মিলিয়ে যাওয়া শূন্যতার কাঁটাতারে

কতো কথাই তো না বলা থেকে গেছে ব্যক্তিগত গীতবিতানে

 

কিছু বাক্যের অপচয়ে দিনশেষে ভার্চুয়াল সম্পর্কে

বহুমাত্রিক গোল বেঁধে গেলে আর হয় না স্বপ্নের বনিবনা;

উদ্যমী স্মৃতির তটরেখায়।

 

পুবালী বাতাসে অবিনাশী প্রেমের দোহাই পেলে

ক্ষুৎকাতর হয়ে উঠি বারবার; বেলা-অবেলায়।

নিজেকে ডেকে যাই সম্মিলিত হাতের হাতছানিতে

দুর্বোধ্য কিছু নিরবতা নিয়ে স্বস্তি খুঁজি; স্বস্তি কোথায়!

প্রশ্নের পারদ উঠছে-নামছে; সীমান্তের এপারে-ওপারে।

কণ্ঠের আওয়াজে হারিয়ে পাওয়া এই তোমাকে

ডেকে যাই ব্যাকুল কুচকাওয়াজে।

 

*জারিফ আলম: কবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো পড়ুন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পাওয়ার ইতিহাস