জামিল হাদীর একগুচ্ছ কবিতা

আত্মপর

ঝরা পাতা আসলে একটা সুরেলা ফিউজিটিভ গান।

যে গান ননস্টপ শুনবে বলে,

বাতাস বিশ্রামে যেতে দেয় না গাছের টেপরেকর্ডারকে।

 

 

কীট পাহাড়

বনসাই করে রাখা হয়েছে আমাদের।

এই যারা আমরা দুঃসামাজিক, তাদের।

আমাদের দলে সবাই আছে।

এমনকি দূর্বাঘাসও আছে!

কবর ঢালাই দেবার সময় তারা নাকি চড়াও হয়েছিলো মৃত পিতার সন্তানের ওপর।

কী বেয়াদব!

 

আছে এক হাজার টাকার নোটও।

তাকে ছিঁড়ে দুই টুকরো করা হয়েছিলো

কারণ কে যেন তার গায়ে উন্নয়নের মায়ের খুব প্রশংসা করে বেশ ভালো ভালো কথা লিখেছিলো!

 

সিলগালা করা, অগণিত ভাঙা তালাও আছে আমাদের ভেতর।

যাদের ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিলো সামাজিক দরবেশ বাবাদের কান্ড-কারখানায়।

 

ভাবী দুঃসামাজিকেরা আমাদের অবস্থা দেখে যেন আগাম শিক্ষা নেয় তাই আজকের তারিখে আমাদেরকে বনসাই করে রাখা হয়েছে।

আগামীতে আমরাই যাদুঘর হবো।

আমাদেরকে কেউ দেখতে আসবে না জানি।

 

টিকিট কেটে মানুষ চলমান তামাশা দেখতে আসে।

পুরোনো রম্যকাহিনীতে আগ্রহ শুধু উইপোকার!

 

ভোর ভয়

নিকষ কালো রাত।

শীতল চাহুনি সারাটা শহর জুড়ে।

তবু হবে উৎখাত,

ঘুমের পৃথিবী; ভোরের আগুনে পুড়ে।

 

আগন্তুকের চোখ বড় নেশাময়।

চারপাশ যেন ঘুমিয়েও জেগে আছে!

পাহারাদারেরা আগুনে সেঁকছে ভয়।

পাথরের গায়ে কার কথা লেখা আছে?

 

 

অদৃষ্ট

চোখ বন্ধ করে কিছুই দেখতে পাই না।

আমার চিন্তারা কর্কটগ্রস্ত।

মুমূর্ষু কল্পনায় কেমোথেরাপিতে কাজ হয় না।

যারা জানে উপর থেকে কোনো দড়ি অন্ধকার খাদে নামবে না,

তাদের চোখ খোলা বা বন্ধ থাকায় কিছু যায় আসে না।

রশ্মি আর রশি তো এক জিনিস না!

জামিল হাদী: কবি, খুলনা মহানগর। 

আরো পড়ুন: বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা