জহুর কবিরের একগুচ্ছ কবিতা

তুমি রবে অন্তরে

কবিতা তোমার অলীক শরীর ছুঁয়ে

বন্ধ চোখের অন্ধকারে  রোজ

চন্দিমা জলা শ্বারদ জোছনা রাতে

নিশিগন্ধার সুরভী আতর করি খোঁজ।

 

তোমার হাসির আল্পনা অবয়ব

আলোর পাখির ধূসর পাখায় এঁকে দিই

করোতোয়া বেয়ে বন্ধুর গিরিপথে

শৈলবাড়ির শৈলচূড়ায় রেখে দিই।

 

ভুবন মায়ের পরে যদি কভু কেউ

কামনার ঢেউ বুকে ভালোবাসে তার

তবে আমি সেই কাব্যদেবীর পায়ে

হবো ফুটন্ত লাল নীল পদ্মের হার।

 

আটলান্টিক দুরত্ব পাড়ি দেই

অক্টোপাসেরর মতো দুর্বার গতিতেই

সহস্রক্রোশ পেরিয়ে তোমার কাছে

ছুটে চলে আসি বাতাসের মতো নিমিষেই।

 

শত বস্ত্রের মাঝে দেখি তুমি আহা

বস্ত্রবিহীন ভাস্কর্যেরর মতো সেই

দূরে থাকলেও তোমার গোপন

নিতম্ব উরু কিছুই অজানা নেই।

 

শরীরের এতো পর্দা বৃথাই তাই

গোপন শিল্প শহরে অবাধ বিচরণে

আমি কবি আঁকি ছবি দেখি সবি একা

স্মরণের মেঠো পথ বেয়ে হাঁটি নিরজনে।

 

আকাশে উড়াল দিলে পাখি হয়ে তুমি

চাঁদোয়া ওষ্ঠে পাই চুম্বন সুখ আমি

বিজলির মতো জ্বললে সুদূরে

তাতে দেখি চিরচেনা সেই প্রিয় মুখ আমি।

 

দেখি গুরু গৃহে দেখি উপাসনালয়ে

ধর্মগুরুর আবিস্কারের দেবী তুমি,

তোমার শিল্প শহরে এখন তাই

খুঁজিনা প্রেমের পীযুষ ভরা মৌসুমী।

 

এভাবে চলতে চলতে হয়তো তুমি

কাম লালসার সীমানা পেরিয়ে যাবে দূরে

বাস্তবতার রঙিণ সূর্য শিখা

নীরবে পুড়বে হৃদয় আকাশ জুড়ে।

 

ইস্রাফিলের প্রলয়ের ঝংকারে

হবে তোলপাড় এ জগৎ ভূমি

নিশ্বাস হয়ে চিরদিন অন্তরে

তবু অক্ষয় রবে প্রিয়া তুমি।

 

আমার দুহাতে অঙ্কিত মূর্তিটা

পুরোহিত ঘরে সযতনে পাবে জানি ঠাঁই

গুরু বলবে যে অামি যে মধুপ এত রূপ

তবুও মদির নেশার সুরভী তার নাই।

 

ও!  সুরভী দিয়ে তুলির টানেতে

এঁকেছি মুরতি হৃদয়ের ক্যানভাসে

ফাল্গুনী হাসি শুনি বারমাসই

দূর বহু দূর অকূল আঁধার বনবাসে।

 

কলম্বাসেরর মতো দূরে আমেরিকা

জয়ের অজয় স্বপ্নে বিভোর থাকি আমি

অধরের পাপড়িতে ঝরে পড়া রঙ নিয়ে

জগৎভূমির দৃশ্য হৃদয়ে  আঁকি আমি ।

 

বর্ষার আলিঙ্গন

আমি মৃত্তিকার গভীর হতে শুনেছি

বর্ষার রিমঝিমঝিম ছন্দে তোমার

বয়ে চলার প্রতিধ্বনি।

কদম কেয়ার স্নিগ্ধ সুরভী আবির

অঞ্জন করে মাখা ষোড়শীর নীলাচলে

প্রথম প্রেমের পরশ শিহরিত

মানস চিত্তে অঙ্কিত লীলায়িত

অভিসার আল্পনা দেখেছি নিগূঢ় নিরিক্ষণে।

কাজল মেঘের কল্প তরী বেয়ে

মেঘে ভেসে ভেসে বিজলী আলোয়

এই বাংলার নিরুপম সৌন্দর্য

অবলোকনে স্বপ্নের পায়রাটা

সজল বাতাসে ভাসিয়ে অামার

অভিষেক কাব্যের সাতনরি হার গেঁথেছি।

গ্রীষ্মের মলিনতা ধোয়া পত্রপল্লবী

সবুজ করেছে আমার তৃষিত হৃদয়

দেখিয়েছে আগামীর দিশা

সরিয়ে নিরাশার ঘন অমানিশা।

জানালার আরশিতে দু’চোখ রেখে

জারুল শাখের চাতকিনীর

পুলকিত স্নানে বিভোর সিক্ত প্রকৃতির

রূপ লাবন্যের মোহনাতে অামার

প্রস্ফুটিত কামনার মুকুলিত মহুয়া

পাপড়ি মেলে মরণ সুখ খোঁজে

বর্ষণ মুখর ক্ষণে নিরজনে

অনুভবের মৌন আলিঙ্গনে অনুক্ষণ।

 

অলকাদুহিতা

তুমি আগুন দেখেছো আলেয়া দেখেছো

আলো দ্যাখোনি।

তুমি আগুনে পুড়েছে আলেয়ায় রেঙেছো

অথচ আলো মাখোনি।

আলোতে তোমার চোখ ঝলসে গেছে

তাই আলোকের হার গাঁথোনি ।

তুমি জয় দেখেছো ক্ষয় দেখেছো

অক্ষয় দ্যাখোনি।

তুমি সফলতা বুঝেছো ব্যর্থতা বুঝেছো

অমরতা বোঝোনি

জহুর কখনো আগুন ছিলোনা যে

তোমার মসনদ জ্বালিয়ে দেবে।

জহুর তোমাকে আলোকিত করতে

এসেছিলো আগুন জ্বালাতে নয়।

তোমার  বোধ হয় আগুন অার

আলোর গতিবিদ্যা জানা নাই।

এতো কিছু বোঝো আর সামান্য

এইটুকু বোঝো নাই।

তুমি মিথ্যা দেখেছো কুৎসিত দেখেছো

প্রকৃত সত্য দ্যাখো নাই

অলকাদুহিতা তোমাকে তাই

আলো ঝলোমল একটি সকাল দিয়ে

বিদায় জানিয়ে যাই ।

 

আরো পড়ুন: জামিল হাদীর কবিতা

 

বসন্ত

চারিপাশে কাচের দেয়াল

পাহারায় দিনরাত সৈন্যসামন্ত

তোমার জীবনে এখন তো

বন্ধু শুধুই সুখ বসন্ত।

 

আমি তো ঠিকই আছি বাউন্ডলে

সাদামাটা অগোছালো

আছি আগের মতোই এখনো

হয়নি তোমার মতো  বদলানো।

 

ঝাড়বাতিতে তোমার ঘরদোর

থাকে আলোকিত

বিত্ত বৈভব হেম পালঙ্কে

আছো পুলকিত।

 

অথচ কথা ছিলো জোছনায়

খড়ে ছাউয়া ছোট্ট আঙিনায়

আমি নিয়ে খুঁজবে সুখের দিগন্ত।

 

আরো পড়ুন: বৈশাখী নাগির্সের কবিতা