‘গরুছাগলের বিরাট হাট’ বনাম ‘বিরাট গরুছাগলের হাট’: শিশির ভট্টাচার্য্য

‘বিরাট গরুছাগলের হাট’বনাম ‘গরুছাগলের বিরাট হাট’। কোন শব্দবন্ধটি বেশি গ্রহণযোগ্য? প্রথমটিকে অশুদ্ধ মনে করা হয়, ঠিক যেভাবে [খাঁটি গরুর দুধ] কিংবা [সুন্দর হাতের লেখা] শব্দবন্ধকে অনেকে অশুদ্ধ বলেন। এঁদের কথায় যুক্তি আছে কিনাআমরা বিচার করে দেখবো।

 

লক্ষ্য করা যেতে পারে যে [গরুছাগলের হাট] শব্দক্রমে রয়েছে একাধিক পূর্ণ, স্বাধীন শব্দ: ‘গরু’, ‘ছাগল’ এবং ‘হাট’। শব্দ ভাষার ন্যূনতম একক, বর্গ বা চযৎধংব শব্দের চেয়ে বৃহত্তর একক।সাধারণত একাধিক শব্দ দিয়ে বর্গ গঠিত হয়। ‘বিজ্ঞানের’ এবং ‘বই’ আলাদা দুটি শব্দ। দুয়ে মিলে [বিজ্ঞানের বই] একটি বর্গ। এটি নামবর্গ, কারণ এর শিরশব্দ বা হেডওয়ার্ড ‘বই’ নাম বা বিশেষ্য পদ।

 

আবার শব্দেও, যেমন একটি সমাসবদ্ধ শব্দে থাকে একাধিক শব্দ। ‘উচ্চবিদ্যালয়’ কিংবা ‘মৌমাছি’ শব্দে আছে একাধিক শব্দ: ‘উচ্চ’ এবং ‘বিদ্যালয়’ কিংবা ‘মৌ’ এবং ‘মাছি’। এ ধরনের শব্দ ‘সমাসবদ্ধ শব্দ’ নামে পরিচিত। যদি শব্দ এবং বর্গ উভয় এককের মধ্যে একাধিক শব্দ থাকে, তবে এদের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে কীভাবে? শব্দ আর বর্গের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে, শব্দের অভ্যন্তরে উপাদানগুলোর বন্ধন বা সংহতি, অন্য কথায়, শব্দের আভ্যন্তরীণ সংহতি বা ইন্টারনাল ইন্টিগ্রিটি,বর্গের উপাদানগুলোর বন্ধন বা সংহতির তুলনায় অনেক বেশি দৃঢ়, অচ্ছেদ্য – শাঁস এবং বীচির বন্ধন যেমনকাঁঠালের ভিতরে বিভিন্ন কোয়ার বন্ধনের তুলনায় কম দৃঢ়তর।

 

আভ্যন্তরীণ সংহতির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয় কোনো ধ্বনিক্রম আদৌ শব্দ কিনা। আভ্যন্তরীণ সংহতির উপস্থিতি কমপক্ষে দুইভাবে পরীক্ষা করা যায়: ১.অনুপ্রবেশায়ন ও ২. বিশেষায়ন। শব্দের অভ্যন্তরে নতুন একটি উপাদান প্রবেশ করিয়ে দেখা হয় ধ্বনিক্রমটি গ্রহণযোগ্য থাকে কিনা। এই পরীক্ষার নাম ‘অনুপ্রবেশায়ন’। যেমন,[বিজ্ঞানের বই] একটি নামবর্গ। আমরা চাইলে [বিজ্ঞানের নতুন বই] বলতে পারি, ‘বিজ্ঞান’ ও ‘বই’ বিশেষ্যদুটির মধ্যে ‘নতুন’ বিশেষণটি অনুপ্রবেশ করিয়ে।[বিজ্ঞানের নতুন বই] গ্রহণযোগ্য হবার অর্থ হচ্ছে, ধ্বনিক্রমটি অনুপ্রবেশায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং সে কারণে এটি শব্দ হতে পারে না।

 

শব্দের উপাদানগুলোকে (সাধারণত) পরস্পরের থেকে আলাদা করা যায় না। ‘উচ্চবিদ্যালয়’ বা ‘মৌমাছি’’র মতো সমাসবব্ধ শব্দের উপাদানগুলোকে বিশ্লিষ্ট করা যায় না, [বিজ্ঞানের বই] এর মতো। ‘বাংলাদেশ সরকার’ ধ্বনিক্রমে এর দুই উপাদানের মধ্যে অন্য একটি উপাদান প্রবেশ করালে, যেমন *‘বাংলাদেশ সার্বভৌম সরকার’, শব্দটি আর গ্রহণযোগ্য থাকে না (গ্রহণ-অযোগ্যতার চিহ্ন হিসেবে এদের বামদিকে তারকাচিহ্ন দেওয়া হয়েছে)। এর মানে হচ্ছে, ‘বাংলাদেশ সরকার’ অনুপ্রবেশায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি এবং সে কারণে এই ধ্বনিক্রমটি একটি (সমাসবদ্ধ) শব্দ।

 

শব্দের যে কোনো একটি উপাদানকে বহিরাগত একটি বিশেষণ দিয়ে মোডিফাই করানোর নাম ‘বিশেষায়ন’। *[বিরাট গরুছাগল] কথাটা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ (আমরা অনুমান করি) [বিরাট] বিশেষণটি একবচন হবার কারণে  [গরু] আর [ছাগল] – এই দুই বিশেষ্যের মধ্যে যে কোনো একটিকে মোডিফাই করার চেষ্টা করছে। কিন্তু  ‘গরু’ আর ‘ছাগল’ – এই দুই উপাদান এমনভাবে সংহত হয়েছে যে কোনো বিশেষণ দিয়ে এর যে কোনো একটি উপাদানকে মোডিফাই করা যাচ্ছে না।

 

[বিরাট বিরাট গরুছাগল] বললে শব্দবন্ধটির গ্রহণযোগ্যতা খানিকটা বৃদ্ধি পায়, কারণ ‘বিরাট বিরাট’-এর মধ্যে কমবেশি বহুবচনের একটা অর্থ বিদ্যমান। ‘গরু-ছাগল’ শব্দবন্ধের ভিন্ন কোনো উপাদান অনুপ্রবেশ করানো যায় না,  *‘গরু-মোটা-ছাগল’-এর মতো শব্দক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু বিশেষায়ন এবং অনুপ্রবেশায়ন – এই দুই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছে, সেহেতু  ‘গরু-ছাগল’ নিঃসন্দেহে একটি (দ্বন্দ্ব) সমাসবদ্ধ  শব্দ।

 

[বিরাট গরুছাগলের হাট] কিংবা [গরুছাগলের বিরাট হাট] দুটি শব্দক্রমই গ্রহণযোগ্য, যার মানে হচ্ছে, [গরুছাগলের হাট] শব্দক্রমটি বিশেষায়ন এবং অনুপ্রবেশায়ন – এই দুই পরীক্ষাতেই পাশ করেছে। সুতরাং এটি নিঃসন্দেহে একটি বর্গ। [গরুছাগলের হাট] একটি ঘড়ঁহ চযৎধংব বা নামবর্গ,কারণ এর শির বা হেড একটি বিশেষ্য বা নামশব্দ।

 

[বিরাট গরুছাগলের হাট] শব্দবন্ধটিকে ‘অশুদ্ধ’ বলছেন যারা, তাদের যুক্তি হতে পারে এরকম: [গরুছাগলের হাট] যদি নামবর্গ হয়ে থাকে, তবে [বিরাট] বিশেষণ এর অব্যবহিত পরে প্রথম যে বিশেষ্য থাকবে, সেটাকেই মোডিফাই করবে, পরের বিশেষ্যটিকে করবে না। বাংলা ভাষায় বিশেষণের এটা স্বভাব বটে। [ভালো মনের মানুষ] শব্দবন্ধে [ভালো] বিশেষণটি যেমন [মন] কে মোডিফাই করে, [মানুষ]-কে নয়, ঠিক তেমনিভাবে [গরুছাগল] বিশেষ্যকেই মোডিফাই করবে [বিরাট], কখনই [হাট] কিংবা [গরুছাগলের হাট]-কে নয়।

 

এতে সমস্যা হচ্ছে কী? সমস্যা হচ্ছে, [বিরাট গরুছাগলের হাট] যিনি লিখেছেন বা বলেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল [হাট]-কে বড় বলা, [গরুছাগল]-কে নিশ্চয়ই নয়। একটি পক্ষ বলতেই পারেন,যদি ঠিক ঐ অর্থটাই বোঝাতে হয়, তবে বলতে হবে: [গরুছাগলের বিরাট হাট]। কিন্তু তাদের বিরোধী পক্ষও শক্তিশালী, ভিন্ন যুক্তি দিতে পারে বৈকি : [বড় নাপিতের সেলুন] এই নামবর্গে [বড়] বিশেষণটি [সেলুন] বা [নাপিতের সেলুন]-কে মোডিফাই করছে, নাপিতকে নয়। সেলুন এখানে বড়, নাপিত নয়, নাপিতের শারীরিক উচ্চতা কিংবা খ্যাতি যাই হোক না কেন।একইভাবে [সুন্দর হাতের লেখা] নামবর্গে বিশেষণ ‘সুন্দর’ বিশেষ্য ‘লেখা’-কেমোডিফাই করছে, ‘হাত’-কে নয়। তখন অন্য পক্ষ আবার পাল্টা যুক্তি দেবে এই বলে যে [শিক্ষিত সার্জনের অপারেশন] নামবর্গে [শিক্ষিত] বিশেষণটি [অপারেশন] নয়, বরং [সার্জন]-কেই মোডিফাই করছে।

 

এক যাত্রায় কেন এই পৃথক ফল হচ্ছে?আমার উত্তর হচ্ছে,কোনো কোনো বর্গ কোনো কারণে বর্গের খোলস ছাড়িয়ে শব্দহবার পথে পা বাড়ায়। সব বর্গ এই আচরণ করে না, সব ভাষায়তের এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাবে না। বাংলায় এটা খুব হয়, প্রাচীন ইংরেজিতেও হতো, আধুনিক ইংরেজিতে ফরাসির চেয়ে বেশি হয়, আরবিতে অত্যন্ত কম হয়।কোনো কোনো ভাষায় শব্দের অন্যতম (সাবধান! একমাত্র নয়!) আতুড়ঘর বা সূতিকাগার হচ্ছে বর্গ বা ফ্রেজ। তুলনামূলকভাবে অধিকতর ব্যবহারের কারণে সম্ভবত [নাপিতের সেলুন]  কিংবা [হাতের লেখা] বর্গদুটি শব্দ হবার পথে পা বাড়িয়েছে, ইতিমধ্যেই এগুলোর এক ধরনের শব্দত্ব জন্মে গেছে। এই ধ্বনিক্রমগুলো ড়িৎফ ঁহফবৎ ঢ়ৎড়পবংংকিংবা ডড়ৎফ ঢ়ষঁং, বাংলায় এ ধরনের ধ্বনিক্রমকে বলা যেতে পারে: ‘শব্দায়মান’। পক্ষান্তরে [সার্জনের অপারেশন] ধ্বনিক্রম এখনও অনুরূপ সৌভাগ্য (কিংবা দুর্ভাগ্য যাই বলুন) অর্জন করতে পারেনি। শুঁয়াপোকা থেকে সাধারণত প্রজাপতি হয় বটে, কিন্তু সব শুঁয়াপোকা প্রজাপতি নাও হতে পারে।

 

[নাপিতের সেলুন] কিংবা [হাতের লেখা] শব্দবন্ধের শব্দত্ব অর্জনের ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন যাঁরা, তাঁরা বলবেন,এ অসম্ভব। এই শব্দবন্ধগুলোর প্রথম সদস্যের শরীরে এখনও কারকচিহ্ন বা ৫মী বিভক্তি লেগে আছে: নাপিত+এর = ‘নাপিতের’, হাত+এর = ‘হাতের’। প্রথমত, কোনো ধ্বনিক্রম শব্দ না হওয়ার বড় একটি প্রমাণ বটে এই বিভক্তিচিহ্নের উপস্থিতি। দ্বিতীয়ত, স্কুলে পড়া সমাসের নিয়ম স্মরণ করার চেষ্টা করুন। [নাপিতের সেলুন], [হাতের লেখা], কিংবা [গরুছাগলের হাট] ৫মী তৎপুরুষ সমাসের একেকটি ব্যাসবাক্য, সমাসবদ্ধ শব্দ কদাপি নয়। সমাসান্ত শব্দ হবে যথাক্রমে *‘নাপিত-সেলুন’, ‘হাতলেখা’ এবং *‘গরু-ছাগল-হাট’। কিন্তু বাংলা ভাষার শব্দকোষে এই শব্দত্রয় সম্ভবত নেই, এখনও নেই।

 

শব্দ হবার পথে পা বাড়ানো মাত্রই একটি শব্দবন্ধ বা বর্গ শব্দ হয়ে যায় না। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক দশক, শতক লেগে যেতে পারে। ‘শব্দায়মান’ বর্গ প্রথমে কিছুটা তার শব্দত্ব হারায় এবং তার পর কালক্রমে তার কারকচিহ্ন বা বিভক্তিগুলো মুছে যায়। [নাপিতের সেলুন] কিংবা [গরুছাগলের হাট] শব্দ হবার পথে পা বাড়িয়েছে মাত্র, এদের শব্দ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শেষ হতে এখনও ঢের বাকি। কারকচিহ্ন বা ৫মী বিভক্তি এখনও তার শরীরে  লেগে আছে, শব্দবন্ধটি এখনও শুঁয়াপোকা পর্যায়ে থাকার কারণে। মেটামরফোজ বা রূপান্তরের পর স্বাধীন শব্দ-প্রজাপতি যেই পাখা মেলবে, কারকচিহ্নও অচিরে মিলিয়ে যাবে।

 

প্রথাগতব্যাকরণেও অনুরূপ নিদান আছে বটে। ‘অলুক সমাস’ বলে শব্দগঠনের একটা নিয়ম আছেসংস্কৃতে বা বাংলায়। আমরা [হাতগড়া রুটি] বলি না, [হাতে গড়া রুটি] বলি। [হাতে গড়া] ক্রিয়াজ বিশেষণটি একটি সমাসবদ্ধ শব্দ, অথচ এতে কারকচিহ্নও বিদ্যমান। এগুলোই অলুক সমাসান্ত শব্দ (‘অলুক’ মানে ধরে নিন এমন কিছু যাতে কোনো কিছু লুকানো হয় না!)  [হাতে গড়া] বহু দিন যাবৎ শব্দ হতে চেষ্টা করছে, কিন্তু এখনও যে একটি স্বাধীন শব্দ হয়ে উঠেনি, তার প্রমাণ, আমরা চাইলে বলতে পারি: [[পাকা][হাতে গড়া] রুটি]]। এটা ঠিক যে ‘হাতে গড়া’ ধ্বনিক্রমের উচ্চারণ ‘পাকা হাতে গড়া’-তে বদলে যায়। ‘হাতে’ এবং ‘গড়া’র মধ্যে অধিকতর বিরাম থাকে। এই পার্থক্যটুকু আমলে না নিলে আমরা দেখবো যে[পাকা] বিশেষণ [হাতে] পদকে মোডিফাই করছে, [রুটি] বিশেষ্যকে নয়।[হাতে গড়া] স্বাধীন শব্দ হলে বাইরে থেকে কোনো বিশেষণ এর কোনো একটি উপাদানকে মোডিফাই করতে পারতো না, যেমনটা সম্ভব হয়নি উজানের *[বিরাট গরুছাগল] শব্দে।

 

[বিরাট গরুছাগলের হাট]এবং [ভালো মনের মানুষ] এই দুটি শব্দবন্ধের প্রথমটি শব্দ হবার পথে অগ্রসর হয়েছে বলেই সাধারণ ভাষাব্যবহারকারীরা [গরুছাগল] কে নয়, [হাট] কিংবা [গরুছাগলের হাট] শব্দবন্ধকে মোডিফাই করতে [বিরাট] বিশেষণটি ব্যবহার করছেন। যারা একে অশুদ্ধ বলছেন, তাদের মনে হচ্ছে, [বিরাট গরুছাগলের হাট] এবং [ভালো মনের মানুষ] – এই দুই শব্দবন্ধ সমপর্যায়ের। তাঁরা ভাবছেন, [ভালো] যেমন করে শুধু [মন]-কে মোডিফাই করে, [বিরাট]ও তেমনি [গরুছাগল]-কেই মোডিফাই করা উচিত, [হাট] কিংবা সম্পূর্ণ [গরুছাগলের হাট]-কে নয়। সুতরাং [গরুছাগলের বিরাট হাট] কিংবা [গরুর খাঁটি দুধ] না বললে ‘ভুল’ বলা হবে। আমি এই ধারণার সঙ্গে একমত নই এবং কেন একমত নই সেই ব্যাখ্যা উজানে দিয়েছি।

 

[বিরাট গরুছাগলের হাট] ধ্বনিক্রমের গ্রহণযোগ্যতার কারণ দেখাতে গিয়ে কেউ কেউ বলেছেন [গরুছাগলের হাট] বিশেষ্য বা যৌগিক বিশেষ্য (এবং ইংরেজিতেও নাকি এমন বিশেষ্য আছে), সুতরাং এর আগে [বিরাট] বিশেষণ যুক্ত হতেই পারে। এই ব্যাখ্যাকে সঠিক মনে হয় না। আমরা উজানে দেখিয়েছি, [গরুছাগলের হাট] এখনও শব্দ হয়ে উঠেনি, বর্গ পর্যায়েই আছে। এটি একটি নামবর্গ,কারণ এর শির ‘হাট’ নামপদ বা বিশেষ্য। শব্দই যেহেতু নয়, সেহেতু সংশ্লিষ্ট ধ্বনিক্রমের কোনো একটি পদ বা শ্রেণীতে (ক্রিয়া কিংবা বিশেষ্য, সাধারণ কিংবা যৌগিক ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত হবার প্রশ্নই আসে না।

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা

আরও পড়ুন- বেবী সাউ এর কবিতা