অতন্দ্র প্রহরী: এলা বসুর কবিতা

মুখোমুখি বসে আছি আমি ও আমার অন্ধকার… এ কেমন নীরব থাকা? এ কোন নিরিবিলিতে পায়রার পালকের মতন উড়ে আসে মৃদুমন্দ স্মৃতি? এখন রাঁধাবাড়ার সময়ে সবই বিলাসিতা … এত এত ভুলে গেছি পুরোনো দিন, নিজের ও অর্ধেকটা রাক্ষসীর মতন গিলে ফেলেছি, তবু গলার ভিতর দিয়ে এন্ডোস্কপির টিউবের মতন ঢুকিয়ে দিই পরিচয় পত্র,ভুল রিপোর্ট আসে, ডাক্তার নিজেই ভুলে যায় রিপোর্টে কি থাকার কথা, কি রয়ে গেল! আমি একা আমার বিশাল অন্ধকার হাঁ থেকে কিছু কিছু তুলে আনব বলে ভোরে উঠে তাকিয়ে থাকি ফুলের দিকে; রাতে পিছনের অন্ধকার বাড়িগুলোয় ধাক্কা খেতে থাকা উঁচু বিল্ডিং এর আলোমাখা জানলার দিকে, সেই আলো নিভিয়ে দিয়ে বিদ্যুতের রেখা চিরে দিয়ে যায় একটা সময়ের বুক, জানলা থেকে ছিটকে আসি! ভয়ঙ্কর বজ্রপাতে কিছু প্রাণ ঝরে যায়, অকস্মাৎ; ঘরে আর জ্বলে না আলো, ছেলে মরে গেছে তাদের, বৃষ্টির বিকেলে কোল অন্ধকার করে চলে গেছে সে ত্রিপল টাঙাতে টাঙাতে, ছাদের ফুটো ফাটার জল আটকাতে আটকাতেl এখন কোনও ফেরার গল্প নেই, অথচ নির্লজ্জের মতন ব্যাঙ ডেকে চলেছে খুশিতে, শামুক উঠে এসেছে দাওয়ায়, মনের আনন্দে কুচো কুচো কেঁচো গাছের গোঁড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, অবিরল বৃষ্টির ছাট ভিজিয়ে চলেছে দরজা, জানলা, দেয়ালের ছবি, ক্যালেন্ডারের রামকৃষ্ণ আর পুরোনো এলবামের চিহ্ন…

 

ফেসবুকে ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য ফোরাম

আরো পড়ুন- রাখী সরদারের কবিতা