একগুচ্ছ ছড়া: রুদ্রাক্ষ রায়হান

মাছরাঙাদের বাড়ি

 

কি দোষ আমার?

রাগ করেছিস?

কেন দিচ্ছিস আড়ি?

 

শোন্ রাহমা

এটা কিন্তুক

বড্ড বাড়াবাড়ি।

 

জানিস কি তুই, ইলিশিয়ার-

দখিন দিকের বাঁকে

একটা গাছে তিনরঙা ঠোঁট

মাছরাঙা দল থাকে।

 

ওই যে মাঠের কাছেই পুকুর

বাতাসে ঢেউ খেলে

সহস্র মাছ খুনসুটি দেয়

লাফায় দীঘির জলে।

 

কেমন স্বভাব বল?

ছোট্ট দেহের মাছগুলোকে

গিলছে লোভীর দল!

 

চল রাহমা ঘুরেই আসি

ইলিশিয়ার বাঁক

সাকাফ, অভিক সঙ্গে যাবে

রাওফিরও আজ যাক।

 

দেখবো মাঝি জাল ফেলে ঠিক

ক্যামনে ইলিশ ধরে

উজানি ঢেউ, নৌকা মাঝির

দোলায় কেমন করে।

 

পাসনে কিন্তু ভয়

নদীর বুকে নাও ভাসাতে

সাহস থাকতে হয়।

 

সাহস হয়তো তোরও আছে

সাঁতার কি তুই জানিস?

চলবে তাতেও জীবন জ্যাকেট

সঙ্গে করে আনিস।

 

নদীর বুকে চর জেগেছে

থামবো হঠাৎ চরে

মাঝ দুপুরের নেমন্তন্ন

এক জেলেনির ঘরে।

 

সবাই কিন্তু যাবো

ইলিশ মাছের গরম ঝোলে

পেট পুরিয়ে খাবো।

 

তারপরে কি, ফেরার পালা?

নাও ভেড়াবো তীরে

জল বৈঠার ছোট্ট ডিঙি

বাইবো ধীরে ধীরে।

 

ওই রাহমা, গোমড়া আছিস?

জলদি ভাঙা আড়ি

দেখতে যাবো ইলিশ, নদী

মাছরাঙাদের বাড়ি।

 

আরও পড়ুন- বিষাদ সিন্ধু উপন্যাস রিভিউ

 

শীতের সময় সন্ধ্যা রাতে ঘুমিয়ে পড়ে গ্রাম

খেজুর গাছে হলদে পাখির বাসা

খেজুর গাছে মিষ্টি রসের হাঁড়ি

ডান পাশে তার ইলিশিয়া নদী

বা পাশটা’তে আমার ছোট্ট বাড়ি

সাদেকপুরা নাম

শীতের সময় সন্ধ্যা রাতে ঘুমিয়ে পড়ে গ্রাম।

 

খুব সকালে হলুদ রোদে কলাই তুলতে গেলে

সবুজ ঘাসের কোমল ডগায় স্বচ্ছ হীরক মেলে

দুপুর বেলায় ফুলকপি আর মাগুর মাছের ঝোল

কিংবা ধরো গরম ভাতে মশলা দেয়া শোল

একসাথে চাইলাম

সন্ধ্যা রাতে শীতের সময় ঘুমিয়ে পড়ে গ্রাম।

 

ঘুমিয়ে পড়ে গ্রামের মানুষ ঘুমিয়ে পড়েন রাত

মাঝরাতে ওই কালো আকাশ টসটসে লাল চাঁদ

নকশী কাঁথা ভুতের কথা আর ঠাকুমার ঝুড়ি

কখন থেকে একই সুতো কাটছে চাঁদের বুড়ি

কিচ্ছাতে থামলাম

ঘুমিয়ে গেলাম আমি দাদু ঘুমিয়ে গেল গ্রাম।

 

 

১৬ই ডিসেম্বর

সবুজ পাতার আড়াল থেকে

একটি পাখি ডাকে

একটি নদী বয়েই চলে

জল মোহনায়-বাঁকে

 

এই যে পাখি, নদীর জোয়ার

শিশির সবুজ পাতায়

সমস্তটা আঁকছো তুমি

তোমার আঁকার খাতায়

 

আঁকছো তুমি নীলাভ আকাশ

শুভ্র কাঁশের বন

আঁকছো মাঠের ফসল সোনা

বাতাস শন্ শন্

 

বলতে পারো কোথায় আছে

এমন আঁকার খাতা?

কই পাওয়া যায় ঘুম পাড়ানি-

গান ও চোখের পাতা?

 

কখন এলো নিজের আকাশ

স্বাধীনতার ঘর?

গল্প শুনতে চাইলে জানো

১৬ ই ডিসেম্বর।

 

ফলো করুন- দিব্যপাঠ সাহিত্য পত্রিকা