একগুচ্ছ কবিতা: পায়েল দেবনাথ

বিরহ বাধন

আকাশের চাদরে শুয়ে দেখছি তোমাকে,

বিস্ময়কর এক প্রেমের গল্পগাথা

লিখেছিলাম প্রাতে।

 

সবুজ গাছ যেমন বনের রাজা তেমনি,

পূর্ণ করেছ আমার হৃদ সিংহাসন।

সন্তর্পনে লিখেছি তোমার বিরহ স্তোত্র

পারিনি ভুলতে বিলুপ্ত সন্ধিক্ষণ,

চাতক বাহুর দৈর্ঘ্যে ছিল যার আস্তানা

উন্মোচন ঘটেনি আমার অবুঝ মনকুঠুরি তে

বিরহের ম্লান রশ্মি, ঝলসে দিচ্ছে আমায়।

 

তুমি আর ফিরলে না?

কলকারখানার নির্গত ধোঁয়া

যেন তোমার বর্ণ ধারণ করেছে,

তোমার বিরহে আজ মোরীচিকা হয়েছি

প্রাক্তন পঙ্কিলতায় ফোটেনি আজও পদ্মফুল।

 

 

স্পন্দন

ভাবছি আর সাঁতার কাটছি…

গ্রামের মেঠো পথ

পথের দুধারে আগাছা যত ফুল

আপন করেনি তাদের একসময়

আছে এখনও প্রাণ

উচ্ছ্বসিত- উদবেলিত

সুন্দরী গায়ের রমনী

কলশ-কাঁখে বিরাজিত সেই

পথের বাঁকে।

আদিবাসী গৃহবধূ ধান মাঠে

করুণ সুরেলা কন্ঠে

বেড়ে ওঠে প্রাণের স্ফূর্তি

কচিকাচারা উচ্ছ্বলিত প্রানপনে

কাঁটিছে সাঁতার নদীর বাড়ি কিনে

ভরদুপুরে বৃক্ষতলে মলয় বাতাসে

কবিতা আর কোকিলের কুহুরবে

পানকৌড়ি ডুব দেয় আর ওঠে

জলের ডিঙি বায়।

বসন্ত বিরাজমান

শাপলা- পদ্মের ঘ্রাণে

নিরস্তর স্পন্দন….

 

 

ঝরা শ্রাবণ

ঋতু বইছে কালের শ্রোতে

বইছে তাতে শ্রাবণের ধারা,

মেঘ গহবর খুঁড়ে বেরিয়েছে মেঘ বালিকা

ঘটবে বর্ষন, আড়াল হবে নক্ষত্র তারা।

 

দিক দিগন্তরে ছড়াচ্ছে ক্রমশ আঁধার

পাখির দল ফিরছে আনন্দ নীড়ে;

গাছের পাতার ফাঁক ঘেঁষে ঝম ঝম শব্দ,

সে বৃষ্টির ধারা নয়, মণি-মুক্তো-হীরে।

 

ধুয়ে মুছে যাক বিদ্বেষ-ক্লান্তি-ক্লেশ

স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠুক কলুষিত দেশ,

ক্ষীণ মৃত্তিকার শুষ্ক রস, ফিরে পাক তার ছোঁয়া

জীবিত থেকে যাক এ শ্রাবণের রেশ।

 

 

রংতুলি

হৃদয় বিহীন হয়ে জন্মেছে তারা

কোনো এক কৃত্রিম আবহে

প্রাণ নেই

তবু প্রাণ বিলায় অচেনা ধূসর ছবিতে

ভীষণ ক্ষুদ্র কিংবা বিশালাকার

হঠকারিতার মত করছে কাজ ।

রং-বেরঙের চিএ করেছে দান

মানুষ করছে তাদের সন্ধান,

নিগূঢ় আলিঙ্গনে।

সাগর-উপসাগরীয় উদ্‌গ্রীব জোয়ার

তার শ্পর্শে কম্পিত।

গহন বৃক্ষের ভিতর করেছে তারা সবুজের সঞ্চার;

গড়েছে প্রকৃতি,নীল দিগন্তের সম্ভার।

কংক্রিটের দেয়ালে আঁকা বিচিত্র ইউক্যালিপটাস

তার শোভায় আজ প্রশংসিত।

প্রাণবন্ত রংতুলি।

 

আরও পড়ুন- রহমান হেনরীর কবিতা