একগুচ্ছ কবিতা: মোস্তফা হায়দার

নোটপ্যাডের কারুকাজ

প্রতিদিন একটি খাতার কাছে হাত পাতি

তোমার সোনামাখা মুখখানির ছবি আঁকতে,

বিশ্লেষণের শোকেস খোলে ক্যালকুলেটরের বাটন

নোটপ্যাডে বসিয়ে দিই রক্তের কারুকাজ!

 

তোমাকে ফ্রেমে বাঁধায় করে রাখার মহত্ব অনেক

উষ্ণ সুখের তরী ভীরে

ব্যাথার ধ্বনির কাছে হারিয়ে যায় আমানত

জিহ্বার স্বাদ চলে যায় বেহায়াদের দুঠোঁটে!

 

আরও পড়ুন- জলচোরা শাদাত আমীনের গল্প

 

তোমাকে মাপার স্কেল

বুথের মেশিনের চেয়ে

বিশ্বাসের মেশিন অনেক গতিশীল,

রিখটার স্কেলে মাপা যায় নিরুপনশক্তি

তোমাকে মাপার কোনো স্কেল হয় নি আজো!

 

ঘন মেঘের হাতছানিতে সাদাবকের উড়ন্ততা

কিসের ইঙ্গিত দেয়, কেউ দিতে পারে নি তার উত্তর

অথচ সাদাপায়রা শান্তির বার্তা পাঠায়;

 

মানুষের আকামের স্কেল বানানো খুব প্রয়োজন

মেধার পরিচর্যাহীনতায় জাতির স্বপ্নে অবদমন

লাগামহীন মুখরোচক সব ধূলিস্যাত করে দেয

ভেঙে দেয় আপাদমস্তক অাস্তিনের জীর্ণতা!

 

বৈশাখের জল পেয়ে কৈ মাছের কানে হাঁটার চিত্রে শিল্পের কোরাস চলে

গীটারের সুর বেজে ওঠে

করাইয়ের চিৎপটাঙে প্রাণের চলে নির্মমবিদায়

বধূয়ার চোখেমুখে ভাজার চিত্র ভাসে

স্বাদের লহমায় জিহ্বারা খোঁজে খেতে পারার নতুন চিত্র!

 

তোমাকে পাওয়ার জন্য কবিতায় বসে সারোৎসার

মিলাতে চায় প্রিয়ার ঠোঁটের ধ্বনির মিলন

যে ছোঁয়ায় মিলে যাক রিখটার স্কেলের সূত্র!

 

 

বিসর্জনে করো নিবেদন

একেকটি সময়ের মুখোশ খুলে

বিশ্বাসের খাতায় রাখো হাত

সুন্দরের পিঠ বেয়ে হাসাও দুঠোঁট

নিজেকে করো কুপোকাত।

 

পুরোরাতে ঠকবাজি সময়ের দাপন শেষে

যাপনের লীলায় দেখ ডাক পড়েছে

চাবিহীন হুঁকে দিনের যাপন করে

প্রশান্তির ছায়ায় বিসর্জনে করো নিবেদন।

 

নিয়ত আর আমানতে মূলৃধনে সমৃদ্ধি

আরশে আজিমে পৌঁছে দুহাতের কামাই

ভূমন্ডল,বায়ুমন্ডলে সংযোগ বেড়ে

কাহার সাক্ষাতে কেঁদে ওঠে অাপনও ক্বলব!

 

ধুয়ে-মুছে, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে

অন্তরআত্মাকে করো মঙ্গলের যাত্রী

আলোর বিচ্ছুরণ বাতাসে ভাসছে

খোঁজে নাও দুহাতের অঞ্জলি ভরে।

 

কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে

শিশু,কিশোর,যৌবনের খেয়াঘাট

ফেরার তাগিদে পেছনে তাকানোর সময় কাঁদবে

ভেঙে দিবে আপনার রঙিন মসনদ!

 

বৈশাখি উত্তাল হাওয়ায় ভাসছে মঙ্গলতরি

জগতের কল্যাণ দেহি হাসছে

ভোগের কার্ণিশে সব কাশছে

অবিশ্বাসে ভেঙ্গে যাচ্ছে বিশ্বাসের খেয়াতরি!

 

 

তোমার কাছে চেয়েছিলাম

তোমার কাছে একটি বিকেল চেয়েছিলাম

তুমি দিয়েছ অবিশ্বাসের গৌধূলি

তুমি দিয়েছ হেলে পড়া বৃক্ষের ছায়া

তুমি দিয়েছ মিহিসুরহীন পাতাদের সংসার।

 

তোমার কাছে একটি সন্ধ্যা চেয়েছিলাম

তুমি দিয়েছ ঝিঁঝিঁ পোকার চিৎকার

তুমি দিয়েছ হারিকেনের মিটিমিটি আলো

তুমি দিয়েছ ধানমাড়ানো ঘাসের স্তুপ।

 

তোমার কাছে একটি রাত চেয়েছিলাম

তুমি দিয়েছো হুতুম পেঁচার ডাক

তুমি দিয়েছো খেকশেয়ালের হাঁক

তুমি দিয়েছ ঘুমঘুম চোখে মায়ার পরশ।

 

তোমার কাছে একটি সকাল চেয়েছিলাম

তুমি দিয়েছ দোয়েলডাকা একটি ভোর

তুমি দিয়েছ রাখালের মাঠে যাওয়ার সুর

তুমি দিয়েছ দুপুর পাওয়ার মেঘরোদ্দুর।

 

তোমার কাছে একটি দুপুর চেয়েছিলাম

তুমি দিয়েছ সাঁতার কাটা জলের ঢেউ

তুমি দিয়েছ সোঁদাগন্ধের মায়াবী সুর

তুমি দিয়েছ একপ্লেটে ভাত খাওয়া মধ্যদুপুর।

 

 

বুক পকেটে মিথ্যা বয়ান

একেকটা রঙের তাবিজে আঁকা স্বপ্নের কথা

কেউ কেউ শুনতে চেয়েও হারিয়েছে সময়,

নিয়তির ফুটবল খেলায় ভাসতে ভাসতে

একেকটা হয়ে উঠছে মালিক হুকুম করুন’র মত!

 

সে দিন নীলবালিশের বুক পকেটে জমা ছিল বিশ্বাস

কেন্দুয়ার সাইড পকেটে ছিল আস্থা

ভোগের নিরব যাঁতাকলে সময়ের চলছে দাপনকাপন

অধিকারের আস্থানায় চলছে মিথ্যা বয়ান!

 

মোস্তফা হায়দার: কবি ও ব্যাংকার। 

 

জয়েন করুন: দিব্যপাঠ সাহিত্য ফোরাম