দীনা আফরোজের একগুচ্ছ কবিতা

নিয়মের উপর দাঁড়াতে বলে, তোমারা ঢুকে গেলে

ঐ বিপরিত গলিটাতে, আর ওটাতে অনিয়ম করে

পাল্টে নিলে দিক।

 

একদিন সকালে নিয়মের রাস্তায় ফাটল দেখে ভয় হয়;

তবে কি! এগিয়ে যাচ্ছি ঐ গলিটার দিকে

 

ঘন অন্ধকার নেমে এলো, টেনে হেচঁড়ে মাটিতে ফেলে দিলো

এরপর অসাধু শব্দটি পিঠে উপর হাতুড়ি মেড়ে আটকে দিলো

কিন্তু আপনারাই বলুন, নিয়মে দাঁড়িয়ে যদি অসাধুই হই

ওরা কেনো অনিয়মের গলিটা বন্ধ করে দেবে?

ওরাই কি সাধু নয়!

 

মাটি কাটি, অথচ বলি স্বর্ণের শরীরে চকচকে বাহারি গ্রেড

উন্নতমান বলছো আর বাজারজাত করছো

সেই প্রচারের জোড়ে এগিয়ে যাচ্ছো;

কাউকে কি বলেছো?

 

একটা পাহাড় কেটে অন্য পাহাড়টা কে একা করে দিয়েছো!

সেই পাহাড় বিচারের অপেক্ষায় তাকিয়ে ছিলো মেঘের দিকে

আর মেঘ সমুদ্রের কাছে যাবে বলে পাহাড়কেই সাজা দিয়ে দিলো।

 

সামনে অবাধ্য রাজপাট, ভিখারির চোখ লাল কেনো?

ভাবছেন তো! ও কিছু নয়, শব্দহীন প্রতিবাদ মাত্র

আমাকে নিন্ম শ্রেনীর বলে, আপনিও যে নিন্মকে ধারন করেন

তা বুঝাতে ভিক্ষুকদের থালায় তুলে দিলেন

এরপর কখন ভব লিলা সাঙ্গ হতে চলেছি

তা কেউ দেখে কেউ আবার অদেখা হয়ে লাথি মারে

অতলে চলে যাওয়া অন্ধ পেটে; যার নিমগ্নে শুধুই বিষ।

 

ফলো করুন- সাহিত্য পত্রিকা

 

আমার বাবা ভিক্ষুক ছিলেন বলেই, এখন আমি কি ভিক্ষুকের বাচ্চা?

ভিক্ষা চাইলেই আমার বাবার শ্যালকের বাচ্চারা বলে, নষ্ট হয়ে গেছি

অথচ দেখুন, এই হাতে ভিক্ষুকের থলি ধরিয়ে দিয়ে

শান্ত চোখ কারণে অকারণে রাঙায়, সেই প্রলয় দেবতারা;

 

এবার দেখুন, ওদের ইচ্ছে তাই ভিক্ষার থালা কেড়ে নিলো

ওরাও নাকি ভিক্ষা দেয়ার কাজটা ছেড়ে দিয়ে

ভিক্ষুকদের ভিক্ষা খেয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে

আমিও ওদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে অকত্ত ভাষায়

ছোট লোক শুনে আসি –

চুপ করে ভাঙা পিঠের ভাঁজ আরো সোজা করে ধরি

নর্জীব নয়, তবুও ওরা করে অসমতা, মেয়ে মানুষ বলে।

 

অটোতে বসে টাকা প্যাঁচিয়ে মুড়ির ঠোঙা বানাছিলাম

অচেনা ভদ্রলোক, ডেকে বললেন ওটাকে কেনো?

যোদ্ধটা এবার রাস্তায় নেমে করা উচিত!

 

কিন্ত অটো যানজটের মাঝে রাস্তাটাই নিখোঁজ হয়ে আছে

এদিকে পায়ের ভীষণ উত্তাপ

তবুও চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া আপনি কিছু ভাবতেই পারবেন না।

 

আরও পড়ুন- হরিৎ বন্দোপাধ্যায়ের কবিতা