একগুচ্ছ কবিতা: সুমাইয়া আক্তার শিলা

মুক্তির সনদে মৃত্যুর ছাপ

 

আমি নীরবতা ছেড়েছি, রাত্রি ছেড়েছি, ঘুম ছেড়েছি

বয়সের দোষে পাথরকুচিকে ভেবেছি ক্যাকটাস!

ষোড়শী হবার পরে,

আমি হাঁসতে ভুলেছি, কাঁদতে ভুলেছি, ছাড়তে শিখেছি

চেয়ে চেয়ে দেখেছি একের পর এক বৃহস্পতিবারের খেলা।

মানুষ মরে যায়,

মাতৃগর্ভে জন্মেছি একবার, মাটিতে পা দিয়ে জন্মেছি দ্বিতীয়বার

তারপর, তারপর বিশ্বাস করে জন্মেছি একবার

ঠকে গিয়ে জন্মেছি দ্বিতীয়বার।

এরপর, এরপর আমি রোজ জন্মতাম।

প্রতি মুহূর্তে নতুন ভাবে নিজেকে জন্ম দিতাম। জন্ম নিতাম।

অনিশ্চয়তায় বাঁধনে দিয়েছি তালা কণ্ঠে,

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার_

মধ্যে দুপুরে বেনামী কাক এসেছে মুক্তির পত্র নিয়ে।

হিসেব নিকেষের দ্বন্ধে দিতে পারেনি জবাব।

আমি নীরবতা ছেড়েছি, রাত্রি ছেড়েছি, ঘুম ছেড়েছি

আমি হাঁসি ভুলেছি, কাঁদতে ভুলেছি, ছাড়তে শিখেছি

বয়সের দোষে নিজে জন্মাতে গিয়ে মৃত্যু দিয়েছি সেচ্ছাশক্তির।

শেষে জন্মেছি অন্যের অধীনে অন্যের পুতুল হয়ে।

অবশেষে, অবশেষে আজও সেই খেলায় চলে মহাকালের গর্ভে,

নিঃসঙ্গতার কাঁধে চড়েছে একাকিত্ব আর বাদ মাগরিবের আযান,

এখন যাচ্ছে দিন, নেমেছে বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যা।

আমার জায়গায় বসেছে মায়া অন্য কামিনীর ছায়া।

 

প্রেমিকার গড় আয়ু

 

এই সব বাতাসের গান, ভ্রমরের আনাগোনা, অপরিকল্পিত ফুলেদের গর্ভাশয়!

ওইখানে বাতাসেও আজকাল পরাগায়ন হয়। মহুয়া বনে ভ্রমরের মৃত্যু।

আর আমি, আমি খুব স্বল্পমেয়াদি। ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে প্রেমিকার গড় আয়ু মাপা এখন। এবং প্রেমিকা, যে ভুলে গেছে তার বয়সের ধারাপাত।

 

ইচ্ছেমৃত্যু

 

একদিন শ্যাওলার মতো বেড়ে উঠেছিল প্রেমিকা,

অপরিপক্ক ভাবে গজিয়েছিল ডাল পালা!

বসন্ত আসার আগেই ঝরে গেল পাতা,

প্রেমিক ছিল নির্বোধ বোকা।

এরপর কুড়ি থেকে ফুল, ফুল থেকে ফল

মেয়েটা আর কোনোদিন গাছ হয়ে জন্মায়নি,

তারপর মেয়েটি হয়েছিল সমুদ্র,

নোনাজলের গন্ধে গা গোলানো বমি!

অদূরবর্তী জল শুকনো মরুভূমি,

প্রেসক্রিপশনের পেইন কিলার ড্রাগ তোমার শুষ্ক চুম্বন।

মেয়েটি আর কখনো জন্ম নেওয়ার ইচ্ছে পুষণ করেনি।

 

*সুমাইয়া আক্তার শিলা: জামালপুর, ময়মনসিংহ। 

আরো পড়ুন- মাহফুজ সজলের পদাবলি