একগুচ্ছ কবিতা- শাহীন আল মামুন

 স্বীকারোক্তি

দৃশ্যত, তবুও আমরা অদৃশ্য

ছায়া শরীরে মাখামাখি

পুরানো নীতি।

 

আদি পিতাও একই

এবং আদি মা’কে তার বাহু বন্ধনে রাখতেন

এটা পিতার প্রেম

আর মা লুফে নিতেন আনন্দ

 

আমরা এই চিরায়ত অনুসারী

নিজেদের এগিয়ে রাখি, ত্যাগে রাখি নারীদের।

সব কিছু জেনেও মা তার মেয়ে সন্তানকে

সুন্দরে দেখতে চায় যেন পিতারা খুশি থাকেন।

 

 

 বাস্তব নয়, এমন

পরাবাস্ত গল্পে ঈশ্বর দুয়ার ঠেলে

কৃষকের ঘামে শস্য ফলে

মাটি উর্বর হয়

কৃষাণি জানে

কাপড়ের ভাঁজে যে শরীর লুকিয়ে

তার লোভ জেগে থাকে সকলের তরে

 

দেহ লোভে দেহমানুষ গল্প পাতে

হাঁপরের ওঠা-নামায় কামারের ঘাম ঝরে

তবুও

পুরাতন কাঁচিতে শান পড়ে।

 

 

 ঈশ্বর ও তার ঈর্ষার উৎস

আগুন্ন, বাতাস, পানি আর মাটি

এই মিলে আমরা;

সময়ের বিবর্তনে ঈশ্বরদূত নিজেদের

এমনটা যদিও পৌরাণে বর্ণিত।

 

প্রাচীন ঈশ্বরের শরীরে আরেক ঈশ্বর

বসিয়েছি নিজেদের সৃষ্টিতে;

এমনটা যদিও পৌরাণে বর্ণিত নেই।

 

বিবর্তনে বিবর্তনে

আমাদের স্বরচিত মহাকাব্যে ঈশ্বরকে

নাজির করেছি নাজরানা দিয়ে;

জেনেছি আমাদের অস্থায়ী বিশ্বাস থেকে

ঈশ্বর সৃষ্টি করতে হবে আগে।

তাই স্বপ্ররোচনা অথবা সমষ্ঠিগত ভাবনায়

ঈশ্বর এসেছে এখানে

এমনটা যদিও পৌরাণে বর্ণিত নেই।

 

আরও পড়ুন- ইবনে আরাবীর বাণী