ইবনে আরাবীর উক্তি

ইবনে আরাবী বা ইবনুল আরাবী (Ibn Arabi) ছিলেন একজন সুফি সাধক, দার্শনিকও লেখক। তাঁর পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মোহম্মদ ইবনুল আলী ইবনুল মোহাম্মদ ইবনুল আরাবী। তিনি ২৭ অথবা ২৮ জুলাই ১১৬৫ সালে আন্দালুসিয়া (বর্তমান স্পেন) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১০ নভেম্বর ১২৪০ সালে সিরিয়ার রাজধানী দোমেস্ক শহরে মৃত্যুবরণ করেন। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের (Ottoman Empire)

প্রতিষ্ঠার কাহিনী নিয়ে নির্মিত টেলিভিশিন ধারাবাহিকে ইবনে আরাবী চরিত্রটির উপস্থিতি রয়েছে। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ১ম ওসমানের পিতা আর্তুগ্রুল গাজীর আধ্যাত্বিক গুরু হিসেবে ইবনে আরাবী দিরিলিস আর্তুগ্রুল এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইবনে আরাবী চরিত্রটি সিরিয়ালে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁর সুফি সংলাপগুলো মঙ্গল এবং টেম্পলারদেরও মুগ্ধ করেছে ইসলাম ধর্মের প্রতি। তেমনই কিছু সুফি সংলাপ নিচে তুলে ধরা হলো-

ইবনে আরাবীর বাণী

১. মানুষ পানিতে ভিজলে তার কাপড় বদলায়, ঘামে ভিজলে তার ভাগ্য বদলায়, আর রক্তে ভিজলে ইতিহাস বদলায়।

২. ধনুক যতো জোরে টানবে, তীর ততো দূরে যাবে।

৩. যে অশ্রু তোমায় কাঁদায়, তা তোমার হৃদয়ের পুঁজ দূর করে।

৪. তোমার দৃষ্টিই তোমার আয়না। তুমি অন্যকে যেভাবে দেখ অন্যরাও তোমাকে ঠিক সেভাবেই দেখে!

৫. ব্যথা সবসময়ই ক্ষণস্থায়ী হয়। আঘাত না পেলে বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করা যায় না!

৬. যতক্ষণ তুমি ঈমাণের পথে আছ ততক্ষণ তোমার শত্রুও আছে!

৭.  গন্তব্য সব সময়ই প্রচেষ্টার আলোকেই নির্ধারিত হয়।

ইবনে আরাবীর বাণী

৮. ভেঙে পড়ো না, হতাশ হয়ো না, ছোট ছোট পরাজয় বৃহৎ জয়েরই হাতছানি। তোমার প্রতিটি পরাজয়ই পরবর্তী জয়ের আহবান।

৯. সাধারণ বান্দা থেকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবার পথে সব থেকে বড় ভূমিকা থাকে শয়তানের।

১০. কোনো কথা গোপন রাখতে জানে না, তাকে কখনোই গোপন কথা বলো না।

১১. তোমার চোখ দিয়ে যে অশ্রু গড়ায়, তা হৃদয়ের বাগানে প্রবাহিত হয়ে বাগানকে ফুলে-ফলে সাজিয়ে তোলে।

১২. আল্লাহ্ বান্দাদের পরীক্ষা নেন, বান্দোকে পরিক্ষার সময় সবর করতে হয়। সবর কোন সহজ কাজ নয়, যে গাছ ঝড়ের সাথে তাল মিলাতে পারেনা তা ভেঙে পড়ে যায়!

১৩. নিজের উপর আস্থা রেখে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল হয়ে এগিয়ে চলো।

১৪. মানুষের জন্য  প্রজ্ঞাই তার সবচেয়ে বড় সম্পদ।

১৫. মানবজীবনের কোন পাপই আল্লাহর রহমতের থেকে বড় নয়।

১৬. মানুষ শূন্য থেকে এসেছে, শূন্যেই ফিরে যাবে।

১৭. কিছু পাওয়ার জন্য  জবরদস্তি করো না, তুমি ততটুকুই পাবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য বরাদ্ধ করে রেখেছেন।

১৮. শাহাদাত হলো নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ট উপায়, কোন মুমিন ব্যক্তি জুলুমের বিরুদ্ধে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবে – ততক্ষণ পর্যন্ত সে একজন শ্রেষ্ট মুসলিম।

১৯. পৃথিবী মানুষের জন্য একটি শিক্ষালয়, যেখানে সকলকে আলাদাভাবে পরিক্ষা করা হয়। মানুষের একমাত্র শিক্ষক হল প্রভূ।

২০. সত্যের পথে যখন কেউ পথিক হয়ে যায়, মহান আল্লাহ স্বয়ং তাঁর সাহায্যকারী হয়ে যায়।

২১. যে বীজ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে আগ্রহী নয়, সে কখনো ফলদায়ী বৃক্ষ হতে পারে না।

২২. যে শুধু নিজের জন্য শান্তি  খুঁজে; তার কাছে শান্তি থাকে না। শান্তি তার জন্যই, যে অপরের কল্যাণে নিয়োজিত।

২৩. তার সাথেই বন্ধুত্ব করো, যার দ্বীনদারী তোমার চাইতে বেশী। এবং দুনিয়াদারী তোমার চাইতে কম।

২৪. লোকজন যদি তোমার উপর মুগ্ধ হয়, তাহলে ভেবো না তুমি মুগ্ধকর। আসলে আল্লাহ যে তোমার পাপগুলোকে ঢেকে রেখেছেন, লোকে তোমার ওপর ঝুলানো আল্লাহর সেই পর্দাতে মুগ্ধ। এটা আসলে তুমি না, এটা আল্লাহর দান করা আবরণ। তোমাকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে যাতে তুমি আরও ভালো কাজ করতে পারো এবং এইসব ধ্বংসাত্মক প্রশংসায় আত্মমুগ্ধ হয়ে না পড়ো।

ইবনে আরাবীর বাণী

আরও পড়ুন- কবর কবিতার লিরিক্স